কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, চাকরি গেলো এএসপির

পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ও পরবর্তীতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখার সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়। অভিযুক্ত কাজী মিজানুর রহমান সর্বশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন।

এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ৱযেভাবে শুরু ও তদন্তের পরিণতি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও বিভাগীয় মামলার নথির সারসংক্ষেপ সূত্রে জানা যায়, কাজী মিজানুর রহমান ২০২০ সালের ১৪ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক জোনে কর্মরত ছিলেন।

ওই সময়ে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পরিচয় হয়। পর্যায়ক্রমে সেই পরিচয় রূপ নেয় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে। পরবর্তীতে এসংক্রান্ত একটি আইনি মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের মধ্যে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও নৈতিকতাবহির্ভূত এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় পুলিশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।

দীর্ঘ বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পিএসসির ইতিবাচক মতামত এবং গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর বাধ্যতামূলক অবসরের এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।