ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে চুক্তি নবায়নে নয়াদিল্লির ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে কোনো উত্তেজনা নয়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় সরকার।
সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ক্লজসহ চুক্তিটি নবায়ন বা সংশোধনের বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটি এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ভারত সঠিক ও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবে, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য শুভ হবে।
সম্প্রতি এনসিপির আহবায়খ নাহিদ ইসলামের ‘গঙ্গা চুক্তি না হলে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না’—এমন মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে যদি বৈরিতা বা দ্বিমতও তৈরি হয়, তাহলেও আমাদের টেবিলে বসতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে (কপ) সামনে রেখে তুরস্কের আঙ্কারায় দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশ ঋণের বদলে জলবায়ু তহবিল থেকে ‘অনুদান’ প্রদান এবং শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের জোরালো দাবি তুলবে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
এদিকে সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, রিয়াদের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নতুন বিস্তারিত তথ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা ঢাকা পায়নি।
অন্যদিকে নিজের সদ্য সমাপ্ত স্পেন সফর নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সেখানে মাদ্রিদের ব্যবসায়ী সংগঠন ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সফল আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পাটশিল্পসহ বিভিন্ন বিকাশমান খাতে যৌথ বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা।