‘শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন নাশকতা চলতে পারে’

চলমান পোশাক শ্রমিকদের নৈরাজ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর দাবি, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট সময়কেন্দ্রিক নয়, বরং শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিনই চলতে পারে; তবে সরকার সব অপচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং এতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে, বিষয়টি সরকার পুরোপুরি অনুধাবন করে।

তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর ২০২৮ সালে মজুরি পর্যালোচনার কথা থাকলেও শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার মেয়াদের আগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির আইনি ও প্রশাসনিক সমাধান প্রক্রিয়া অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।

আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংস আচরণ কোনো ভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অধীনস্থ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলেছেন, এসব ঘটনায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগানো হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মাঠে কিছু করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে তাদের কাছে জমা থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশল সম্পর্কে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন যে, সরকার বিগত আমলের মতো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমাতে চায় না।

তিনি বলেন, আন্দোলনরত তরুণরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল নাশকতামূলক চক্র চিহ্নিত করার পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রেখে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে পুলিশকে আইন মেনে সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাঁকে আইনগত প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। তিনি নিজে ফিরে আসুন কিংবা তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হোক, সরকারের লক্ষ্য অভিন্ন। তবে তাঁর পাসপোর্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ট্রাভেল পাস দেয়ার বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য না করে তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার যথা সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।