বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে জননেত্রী শেখ হাসিনা অনন্য

বাংলাদেশের নিঃশেষ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, মানুষের অধিকার, দেশের অবকাঠামো আবার ফিরে পেল তার রূপ, সর্বত্র উন্নয়নের কাজ শুরু হল। আজ পর্যন্ত তার সময় দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়ন কেমন হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমেরিকান নেতা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একসময় বলতো বাংলাদেশ তলা বিহীন ঝুড়ি। সেই বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, ১৯৭৫ ছিল স্বল্প উন্নত দেশ, ১৯১৫ সালে ছিল নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০০৮ -এর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ‘ভিশন– ২০২১’ এ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। কিন্তু ২০২১ সালের আগেই সে লক্ষে পৌঁছেছে।

সিআরআই এর মতে, ২০০৯ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৭৫৯ মার্কিন ডলার, ২০১৮ সালে ১৭৫২ মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে দারিদ্রের হার ছিল ৩১.৫%, যা ২০১৮ সালে কমে দাঁড়ায় ২১.৮%। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০০৯ ছিল ৫%, ২০১৮ সালে গড় ৬.৬% হার। বাংলাদেশের ২০০৯ সালে বাজেট আকার ছিল ৮৯০ বিলিয়ন, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৬৪৫ বিলিয়ন। দেশরত্ন শিক্ষার বাতিঘর, ২০০৭ সালে শিক্ষার হার ছিল ৪৬.৬৬%, যা ২০১৮ সালে ৭৩%। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ার হার ছিল ২০০৭ সালে ৪৫%, ২০১৭ সালে কমে ১৮%।

১৪৯৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, ২৬ হাজার ১৯৩ বেসরকারি স্কুলকে সরকারি করা হয়েছে। ১ লাখ ৮ হাজার ২০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ১ লাখ তিন হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষককে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ৩৫.৪২ বিলিয়ন বই বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ফটো

গত ১০ বছরে টেকনিকাল ট্রেনিং দেয়া হয়েছে ৮ লাখ শিক্ষককে, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ১৫% যা ২০০৭ সালে ছিল ৬%। নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান, নারী শিক্ষার প্রাসার ধটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো নারী ও শিশুশিক্ষার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে শান্তি বৃক্ষ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। বর্তমান বেকারের হার ৪.২% যা ২০০৯ সালে ছিল ৫% যেখানে নতুন চাকরি অনুসন্ধানী বাড়ছে ২.৩%। ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। ১.৫ মিলিয়ন মানুষকে চাকরি ও বিনিয়োগের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষকে চাকরি দেয়া হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের দেবদূত, ১৬ হাজার ৪৩৮ কমিউনিটি মেডিকেল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলেছে যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০ রকমের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্যাটেলাইট ক্লিনিক আছে প্রায় ৩০ হাজার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০০৯ সালে ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট যা বর্তমানে ২০ হাজার মেগাওয়াট। ২০২১ সালে টার্গেট ২৪ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কাজ করে ফলে ছিটমহল সমস্যা সমাধানে কাজ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জয় করেন ফলে তিনি সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন।

সবুজ পতাকা তুলে মেট্রোরেল উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ফটো

পরিবেশ রক্ষায় তার অবদান অপরিসীম ২০০৯ সালে বনায়নের বৃদ্ধির হার ছিল ৯%, এ এখন ১৭%। বনায়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নেতৃত্বের জন্য ইউএন পরিবেশ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অফ দা আর্থ প্রদান করেন।

১০টি মেগা প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে বিশেষ করে পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেল সেতু, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, রামপাল কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর শেষ হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং শেষ হতে যাওয়া কর্ণফুলী টানেল।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে পদ্মা বহুমুখী সেতুর ছবি তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ফটো

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮-এ নারীর ক্ষমতায়ন, সম-অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতি পুনর্বহাল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবং নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার নিমিত্তে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করছে।

নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, নারী উন্নয়নে ৩ হাজার ২৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছিল ২০০৯-১০ যা ২০১৭-১৮ সেশনে ১৩৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে নারী, স্পিকার, মন্ত্রীসহ অনেকে। মানবতার জননী, তিনি সবসময় গরিব দুঃখী মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংকটে তিনি নির্দেশ দিতে পারতেন তাদের এদেশ না আসতে দেয়ার। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিজিবি জোয়ানদের বললেন তাদের আসতে দাও। তাদের সকল দায়িত্ব নিলেন যেখানে সকল দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি দেয়া হয়। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৪তম অর্থনীতির দেশ, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৮৮ মার্কিন ডলার যা গত তিন দশকে সর্বোচ্চ। শেখ হাসিনা এভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই গর্ব করে বলি, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।