প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তার দলের একান্ত প্রচেষ্টায় হাম সংকট উত্তরণের পথে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অঞ্চলে হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হলেও, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার যেভাবে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই অর্জনের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। দায়িত্ব নেয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে যে বিষয়ে তদারকি করেছেন, সেটি হলো হামে শিশু মৃত্যু ঠেকানো। স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে দিয়েছিলেন বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট।

বিগত সরকারের উদাসীনতা যখন এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী ঠিক তখনই বর্তমান সরকারের তড়িৎ সিদ্ধান্ত এবং কার্যকরের মাধ্যমে আরো ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতি থেকে আপাতত মুক্তি মিলতে যাচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। টিকাদানের সামান্য ঘাটতিও দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। অতীতের অব্যবস্থাপনা, সময়মতো টিকা সংগ্রহে বিলম্ব এবং কিছু অঞ্চলে রুটিন টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। তবে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে।

পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরপরই সরকার উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ,বিশেষ করে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভ্যাকসিন জোট- গ্যাভি’র সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করে। অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় হাম টিকা, সিরিঞ্জ, কোল্ড চেইন সরঞ্জাম এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। সরকারের এই দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা দেশের জন্য একটি বড় সাফল্য।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত চালু করা হয়। পরবর্তীতে চারটি মহানগর এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয় এবং ধাপে ধাপে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হয়। এই দ্রুত বাস্তবায়ন সক্ষমতা দেখিয়েছে যে সঠিক নেতৃত্ব ও সমন্বয় থাকলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ কভারেজ অর্জন। বৈশ্বিক মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত উচ্চমানের অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক উন্নত দেশেও জরুরি ক্যাম্পেইনে এ ধরনের কভারেজ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

এই কর্মসূচিকে সফল করতে সরকার শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করেনি; বরং এটি একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, এনজিও, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং অন্যান্য বেসরকারি অংশীজনদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, গুজব মোকাবিলা এবং অভিভাবকদের সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে এই সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

একইসঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোকে পুনরায় প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে হাম আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। শিশুদের জন্য আলাদা বেড, জরুরি ওষুধ, অক্সিজেন সহায়তা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ও ক্লিনিক্যাল প্রোটোকলও জারি করা হয়েছে যাতে জটিলতা দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করা যায়।

সরকার তথ্য ব্যবস্থাপনাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি, কভারেজ, ভ্যাকসিন সরবরাহ, সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তকরণ এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন সংগ্রহে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

এই অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করেছে যে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ কেবল সামাজিক ব্যয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অংশ। একটি শক্তিশালী টিকাদান ব্যবস্থা, দক্ষ স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় থাকলে বাংলাদেশ যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সক্ষম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার আতঙ্ক নয়, আস্থা তৈরি করেছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ দেখিয়েছে যে একটি সমন্বিত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা কীভাবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সফল ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

দায়িত্ব নেয়ার পর পর এত বড় সংকট মোকাবেলা করতে হয়তো মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক সংকটের কথা জানা ছিল তার। কিন্তু শিশু মৃত্যুর মতো ভয়াবহ খবর হঠাৎ তাকে চমকে দেয়। ভয়াবহ যতই হোক তার নির্দেশনা সুস্পষ্ট। যেকোনো মূল্যে শিশুদের জীবন রক্ষা করতে হবে। এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব। ‌

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক হয় মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। ‌সরকারের কাছে হামের টিকা নেই। যেগুলো সংরক্ষিত আছে সেগুলো, জুলাই মাসে ব্যবহারের জন্য। তাও টিকাগুলো সরকারের নয়। গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালাইন্সের। শিশুরা যখন মারা যাচ্ছে তখন টিকার মালিকানা কার সেই প্রশ্ন খুব বড় কিছু?

অবশ্যই বিষয়টি জটিল। ‌এসব দাপ্তরিক বিষয় ইমোশনকে পাশ কাটিয়ে দেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং শিশু মৃত্যু ঠেকাতে হবে। তখনই প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় ইউসেফের মাধ্যমে গ্যাভির (গ্লোবাল ভ্যাকসিন এলায়েন্স) কাছ থেকে টিকা নিয়ে আসা হবে। এভাবেই শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ববোধ সংকট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের শক্তি যোগায়। ‌

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের নেতৃত্ব

সরকারের দ্রুত সফলতার পেছনে আছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার হয়ে পৃথিবীর ৩৮ টি দেশে এ ধরনের ক্রাইসিস মোমেন্টে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে তিনি এসব বিষয় মোকাবেলায় দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে হাম নিয়ন্ত্রণে।

সবচাইতে বড় বিষয় হলো, দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকার ব্যবস্থা করা। গাভির সহযোগিতায় শিশুদের প্রাণ বাঁচানোর উপায় তথা টিকার ব্যবস্থা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। সরকার আশা করছে মে মাসের মধ্যে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে যাচ্ছে।

এখন যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেই হাসপাতালে আসতে দেরি করেছে অথবা ভ্যাকসিন দেয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হয়নি। ভ্যাকসিনের আওতায় আসেনি এমন কিছু শিশু এখনো আছে। সেগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার।

দায়িত্ব নেয়ার পর সবচেয়ে বড় দুটি সংকট দেখা দেয় সরকারের সামনে। জ্বালানি তেল এবং শিশু মৃত্যু ঠেকানো। জ্বালানি তেলের সংকট এখন নেই। কূটনৈতিকভাবে সেই সংকট মোকাবেলা করা হয়েছে অনেকটাই। আর হামে মৃত্যু ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। কৃতিত্বটা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের একার, সে কথা আমি বলছি না। তবে যোগ্য লোকদের দায়িত্ব দেয়া হলে সেটা যে দেশের পক্ষে কাজে লাগে তা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি।

সরকার ঘোষণা দিয়েছে এই মে মাসের মধ্যে শিশু মৃত্যু শূন্যের কোঠায় আসবে। সেটা যদি সম্ভব হয় তাহলে সরকার সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। সংকটের মুখোমুখি হয়ে মাত্র দু মাসের মাথায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার কৃতিত্বের মুকুট উঠবে প্রধানমন্ত্রীর মাথায়। কারণ তিনি বিশেষ সহকারী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জনকারী একজন মানুষকে।

দেশজুড়ে বিএনপি'র এমপিদের সহযোগিতা

দেশের সরকারপ্রধান যখন কোন একটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় তখন তার অনুসারীরা তথা অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও উজ্জীবিত হয়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। ‌দেশ জুড়ে বিএনপি'র সংসদ সদস্যরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন এবং পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ।

আজকের যেসব শিশুরা নতুন জীবন পেতে যাচ্ছে তাদের দোয়া থাকবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রত। সেই সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সরকারি ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও পাবেন শিশু ও তাদের পরিবারের আশীর্বাদ।

লেখক: সাংবাদিক ও লেখক

এআরএস
চোখ দুটো বন্ধ করে কল্পনা করুন। প্রবাসে, অন্ধকার রাতে, একটা অজানা শহরের জনবহুল সড়কের পাশে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। চারিদিকে যানবাহনের শব্দ। আশপাশের কারও কথা আপনি বুঝতে পারছেন না। দু একটা শব্দ বুঝলেও আপনার...
উন্নয়ন একটি বহুমাত্রিক বিষয় ও চলমান প্রক্রিয়া। দেশ-কাল ভেদে অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে সাথে এই মাত্রারও পরিবর্তন হয়। যেমন, ১৯৩০ এর দশকে ব্রিটেনে উন্নয়ন দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিলো...
বাংলাদেশের নিঃশেষ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, মানুষের অধিকার, দেশের অবকাঠামো আবার ফিরে পেল তার রূপ, সর্বত্র উন্নয়নের কাজ শুরু হল।
তোমরাই বাংলাদেশ! দাঁড়িয়ে অভিবাদন কিংবা টুপি খোলা অভিবাদন নয়, ছাদ খোলা অভিবাদনের ধারণাও বাংলার মেয়েরাই হাজির করলো! খেলা মুক্তিযুদ্ধ নয়, তুলনীয়ও নয়। তবু বাংলাদেশের মতো দেশে মেয়েদের...
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই টেনিস দুনিয়ায় নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন রুশ টেনিস বিস্ময় মিরা আন্দ্রেভা। আর ১৯ বছর বয়সে পা রাখতেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। শনিবার...
ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে চলেছেন ১৫ বছরের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ব্যাট হাতে যে টর্নেডো তিনি চালিয়েছেন, তার পুরস্কার হাতেনাতে...
সরকারের নেয়া কার্যক্রম দেশের সব জায়গায় ঠিকঠাকভাবে চলছে কিনা তা দেখভালের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদীয় দলের সভায় সাত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মুল‍্যায়ন করে এই নির্দেশ দেন তিনি। 
মাটির গুণগত মান বজায় রাখা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর