ভয়ংকর ও বিপজ্জনক, অন্যদিকে সিনেমাটিক। দিনের বেলায় পরিচয় বাসের শ্রমিক বা নরসুন্দর, নয় কেউ অটোচালক। আর আধার নামতেই বদলে যায় এদের চেহারা, বেরিয়ে আসে আসল রূপ। পেশাদার খুনি কিংবা ছিনতাইকারি হিসাবে আবির্ভূত হন তারা।
সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন মাঠে নেমে কখনো ছিনতাই করতো। আবার কখনও মানুষ খুন করে মাত্র পাঁচশ’ থেকে হাজার টাকায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এমন সব তথ্য।
রোববার (২১ নভেম্বর) দুপুরে, রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভয়ংকর এই চক্র সম্পর্কে গায়ে কাটা দেওয়ার মতো বিস্তারিত সব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
গাজীপুরের বদরে আলম সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান তুহিন। লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে কোনাবাড়ির রুনু সুপার মার্কেটের একটি মোবাইল কোম্পানির দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তুহিন।
অপ্পো শোরুমের বিক্রয়কর্মী মেহেদী হাসান তুহিনকে গত ১২ নভেম্বর রাতে গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি করে গাজীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে তদন্তে নামে সিআইডি এবং হত্যা মামলার রহস্য ভেদ করে। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরা হলেন- সুমন হোসেন (২৪), হযরত (২২), মাসুদ রানা (২২), আলিয়ার রহমান রাজু ও ফখরুল ইসলাম (৩৮)।
আরও পড়ুন: বদরুন্নেসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া বাস হেলপার আটক
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি কর্মকর্তা মুক্তাধর জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে তারা নিজ পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই করতো। প্রয়োজনে হত্যাও করতো ভুক্তভোগীদের।
এই চক্রের মোট ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। এরা সবাই দিনে বাসের হেলপারের কাজ করে, কেউ বা অটোচালক। আর রাত হলেই তারা নেমে পড়ে ছিনতাই বা মানুষ খুন করতে। এদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার পাঁচজন। সিআইডিকে জানিয়েছে, গাজীপুরের কোনাবাড়ির রুনু মার্কেটের লোটাস টেলিকম থেকে কাজ শেষে মজলিশপুর তার ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন মেহেদি হাসান তুহিন।
যাওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে পাঁচ-সাতজন ছিনতাইকারী তার পথ আটকিয়ে তার কাছে থাকা নগদ টাকাসহ ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। পরে তুহিন তার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটি তাদের দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড দিয়ে আঘাত করে এবং ছিনতাইকারীদের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে তুহিনের গলাকেটে হত্যা করে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
সিআইডি কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় কিছু আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। খুব শিগগিরই তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তার করা পাঁচজনকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
একাত্তর/টিএ