পুলিশ পরিচয়ে বামপন্থী নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

বামপন্থী দল সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর নেতা সাজেদুল হক রুবেলকে তার বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে সোমবার (২২ নভেম্বর) মধ্যরাতে পুলিশের গাড়ি এসে রুবেলকে তুলে নেয় বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।

রুবেলের স্বজনদের বরাতে সিপিবির সহযোগী সংগঠন যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম জানান, রাত ১১টার দিকে পুলিশের গাড়ি এসে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যায়। “ডা. রুবেলের বাবা অধ্যাপক ডা. রেজাউল হক যখন জানতে চাইছিলেন, তখন তারা বলেছিলেন যে থানায় নেওয়া হচ্ছে।”

একাত্তর অনলাইনকে মাসুম বলেন, তারা পরে কাফরুল ও মিরপুর থানায় খোঁজ নিলেও কোনো থানার পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করা হয়নি।

এই যুব নেতার ধারণা, আইডিএস গার্মেন্টসের শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন রুবেল, সেই কারণেই তাকে ধরে নেওয়া হয়েছে।

রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে কাফরুল থানার ওসি হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের খবর অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন,“ আমরা খুঁজছি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।”

কী কারণে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের উস্কে দিচ্ছে। পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে কিছু করতে পারবে না, এমন বক্তব্য দিচ্ছে। গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার করছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি হাফিজুর বলেন, “অন্য কোনো এজেন্সি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিতে পারে। তবে আমাদের থানাতেই তাকে দেবে। তাকে থানায় দেওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি-মিরপুর বিভাগ) সালাউদ্দিন খান নাদিম বলেন, তারা রুবেলকে গ্রেপ্তার করেননি।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল পেশায় দন্ত চিকিৎসক। তিনি যুব ইউনিয়নেরও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে সিপিবির মেয়র প্রার্থী ছিলেন।

রুবেলের বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।

এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “তার বাসায় ২২ নভেম্বর ২০২১ রাতে পুলিশ হানা দেয় ও কাফরুল থানার পরিচয় দিয়ে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত কমরেড রুবেলকে থানায় নেওয়া হয়নি। আমরা তার খবর পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্ট থানার কর্তব্যরতরা থানায় নেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। আমরা অবিলম্বে ডা. সাজেদুল হক রুবেল এর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাই।  নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

রুবেলের মুক্তি দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ এবং সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম।

বিবৃতিতে বলা হয়, “গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে কখন কোন ন্যায্য আন্দোলন কে থামানো যায়নি। যুবনেতা ডা.সাজেদুল হক রুবেল অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া না হলে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তুলবে।”


একাত্তর/এসএ