সপ্তাহ ব্যবধানে বাংলাদেশে সংক্রমণ বেড়েছে ৪৪ গুণ

করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের লড়াই যখন আশার আলো ছড়াচ্ছিলো, টিক তখনই নতুন করে ভাইরাসটি নতুন করে এক তেজি রূপে হাজির হয়েছে।

মারাত্মক সংক্রমণ ক্ষমতার ওমিক্রন ধরনের দাপটে দৈনিক শনাক্তে অতীতের সব রেকর্ডকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে করোনা ভাইরাস। আবারো পেছনে ঠেলে দিয়েছে বিশ্ব জীবন।

এমনই শঙ্কা নিয়ে শুরু হয়েছে মহামারীকালের আরো একটি নতুন বছর। সংক্রমণের নিত্য নতুন রেকর্ড আর বিধি নিষেধের বেড়াজালেই ইংরেজি নতুন বর্ষকে বরণ করেছে বিশ্ববাসী। 

ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ তোলার পর, ওমিক্রন এখন এশিয়াতে চোখ রাঙাচ্ছে। গোটা মহাদেশটি জুড়েই দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। 

আগের সাত দিনের তুলনায় সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে ৩১ গুণেরও বেশি। ওই সাত দিনে এশিয়াজুড়ে সংক্রমণের সংখ্যা ছিলো প্রায় পাঁচ লাখ তিন হাজার। 

সেখানে পরের সাত দিনে নতুন করে সংক্রান্ত হয়েছে প্রায় ছয় লাখ ৫৭ হাজার। দৈনিক শনাক্তের হারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফিলিপাইন। দেশটিতে এই হার সাড়ে সাতশ’ গুণের বেশি।

এছাড়া দৈনিক শনাক্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আরব আমিরাত, সাইপ্রাস, কুয়েত, ম্যাকাও, বাহরাইন, সৌদি আরব, ইসরাইল, কাতার, হংকং, ওমান ও চীন।

সংক্রমণ সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী বাংলাদেশেও। শনিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আগের সাত দিনে দৈনিক শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮২৯ জন। আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিলো এক হাজার ৯৬০। 

অর্থাৎ, বাংলাদেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়েছে ৪৪ গুণ। সংক্রমণ বৃদ্ধির এই হারে বাংলাদেশ এশিয়ার ২০ নম্বরে অবস্থান করছে। আর বিশ্বে ১১৪ তম স্থানে। 

করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটার ডট কমের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণে দেয়া যাচ্ছে এশিয়াতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের দেশ হচ্ছে তুরস্ক। এরপরেই রয়েছে ভিয়েতনাম।

সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে ২১ নম্বর স্থানে। আর প্রতিবেশী ভারত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দেশটির এক সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়েছে ৭৫ গুণ। 

সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া শীর্ষ দশে আছে- তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইসরাইল, থাইল্যান্ড, লেবানন, সাইপ্রাস ও জর্জিয়া। 

আরও পড়ুন: করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখল ফ্রান্স

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলংকা আছে ১৬তম স্থানে। সেখানে বাংলাদেশ আছে ২১তম স্থানে। আর পকিস্তান রয়েছে ২৩তম অবস্থানে। নেপাল আছে ২৯ আর মালদ্বীপ ৩৪তম স্থানে।