উত্তরা-গাজীপুর সড়ক ঠিক হলেও তিন চাকার দৌরাত্ম্য চরমে

একটা সময় ছিলো যখন ঢাকার উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের নাম শুনলেই এই পথে চলাচলকারিদের গায়ে জ্বর আসতো।

গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে সেটি পরিণত হয় দুর্ভোগের আরেক নামে। বর্ষায় সেই দুর্ভোগ বর্ণনাতীত ভোগান্তিতে রূপ নিতো।

কিন্তু উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক এখন প্রায় নতুন। নেই কোন ভাঙাচোরা বা খানাখন্দ। খুব অল্প সময়েই এখন এই সড়ক পাড়ি দেয়া যায়।

সড়ক ঠিক হলেও এই পথে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন যান ইজি বাইকসহ তিন চাকার অন্যান্য বাহন। পুরো সড়কজুড়েই ধীরগতির এই বাহনগুলোর দাপট। যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা বা রাস্তা দখল করে পার্কিং বানানো বন্ধ করা না গেলে ঈদযাত্রায় স্বস্তি মিলবে না বলে জানিয়েছেন এই পথে ব্যবহার করা নিত্যদিনের যাত্রীরা।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। 

তবে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি, সড়কের সিংহভাগ দখল করে নির্মাণযজ্ঞ এবং বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করায় আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে। 

তবে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে এখন নেই খানাখন্দ। বিআরটি’র কাজ চলমান থাকলেও সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ফলে নেই যানজটের ভোগান্তি। 

তবে এই মহাসড়কে এখন ভোগান্তির নাম তিন চাকার বাহন। আব্দুল্লাহপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় পুরো সড়কেই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাসহ তিন চাকার নানা রকম বাহনের দাপট। 

সড়ক দখল করে যাত্রী তোলা ও যেখানে সেখানে পার্কিং এর কারণে রাস্তায় তৈরি হচ্ছে যানজট। যাদের নিয়ন্ত্রণের কোন চেষ্টা করছে না ট্রাফিক পুলিশ। 

যদিও টিভি ক্যামেরা দেখেই কিছুক্ষণের জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মর্তারা। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আবারও সড়কে জট। বহু মানুষের ভোগান্তি। 

মহাসড়কে অবৈধ ঘোষণা করা এসব বাহনের জন্য স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না দূর পাল্লার বাহনগুলো। 

তাই টঙ্গি গাজীপুর সড়ক মেরামত হলেও গতির সুফল পাচ্ছেন না যাত্রীরা। এই সড়কে ঈদ যাত্রায় এটাই হতে পারে ভোগান্তির কারণ 

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, তাদের দায়িত্ব ছিলো সড়ক মেরামতের। তারা সেই কাজ শেষ করেছেন। 

এখন মহাসড়ক থেকে তিন চাকার এসব বাহন নিষিদ্ধ করার কাজ ট্রাফিক বিভাগের। আর সেটি করা গেলে ঈদ যাত্রায় যানজটের কোন শঙ্কা থাকবে না। 

একাত্তর/এআর