পার পেয়ে গেলেন রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক!

অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলেন রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক। 

তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের জবাব দিতে রোববার (৭ আগস্ট) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়েই নাজমুল হক হয়ে গেলেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি। আর এ পরিচয়ে তিনি বৈঠকও করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে। 

এই বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক এ এইচ এম স‌ফিকুজ্জামান বললেন, অপরাধ করে কেও পাবে না! 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির দিন অর্থাৎ শনিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর রমনা পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। যেখানে প্রমাণ পেলে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আভাস পেয়ে, শুক্রবার (৫ আগস্ট) বেলা ৬টায় বিনা নোটিসে পাম্প বন্ধ করে দেয় রমনা পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। 

অধিদপ্তরের অভিযানে দেখা যায়, শুক্রবার যখন রমনা পেট্রোল পাম্পটি বন্ধ করা হয় তখনও এই পাম্পে মজুদ ছিলো ২৭ হাজার ৬২৩ লিটার অকটেন এবং ৩ হাজার ৮৬৪ লিটার ডিজেল। লিটারে ৪৬ টাকা অকটেনে এবং ডিজেলে ৩৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায়, এক দিনেই রমনা পেট্রোল পাম্পের মুনাফার পরিমাণ ১৪ লাখ ২ হাজার ৩৪ টাকা। 

শুধু এই অবৈধ মুনাফাই নয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অধিদপ্তরের অভিযানে কোন লাইসেন্সই দেখাতে পারেনি রমনা পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। ফলে পাম্প মালিক নাজমুল হককে রোববার ভোক্তা অধিদপ্তরে তলব করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল।

অভিযোগের জবাব দিতে রোববার (৭ আগস্ট) কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অধিদপ্তরের দপ্তরেও আসেন রমনা পেট্রোল পাম্প মালিক নাজমুল হক। কিন্তু অধিদপ্তরে এসে নাজমুল হয় হয়ে গেলেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি। বৈঠকও করে গেলেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে। ফলে কোন দণ্ডই হলো না তার। 

তবে নাজমুল হককে কোনো দণ্ড না দিলেও মহাপরিচালক বললেন, ভোক্তার সুবিধা এবং সৎ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেয়াই ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কাজ। 

মিটার টেম্পারিং করে যারা গ্রাহককে তেল কম দিয়ে ঠকাচ্ছে সে সব পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানালেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। 


একাত্তর/জো