প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। তাদের কাছে গ্রাহকদের পাওনা কমপক্ষে ৩১১ কোটি টাকা। আর মার্চেন্টদের কাছে দেনা ১৯০ কোটি টাকা।
কিন্তু আইনি নিষ্পত্তি ছাড়া গ্রাহকদের পাওনা ফিরে পাবার উপায় নেই। আবার প্রতিষ্ঠানটির নতুন করে ব্যবসায় ফিরতে হলেও দরকার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ।
দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ড কান্ট্রিবয়ের এসিসটেন্ট ম্যানেজার আতিকুর রহমান। ইভ্যালির কাছে মার্চেন্ট হিসেবে তার প্রতিষ্ঠানের পাওনা এক কোটি টাকারও বেশি। আর গ্রাহক হিসেবে ৮ লাখ।
অন্যদিকে নিজেকে বার্গার এক্সপ্রেসের ম্যানেজিং পার্টনার পরিচয় দেয়া মাসুদ রানা জানালেন মার্চেন্ট ও গ্রাহক দুভাবে ইভ্যালির কাছে তাঁর পাওনা ৪০ লাখের বেশি।
তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যালী আবারও চালু না হলে তাদের এই টাকা ফেরত পাবার আর কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু অতীতের দায়-দেনা নিরুপন করে নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইভ্যালি চালু হলে তারা পাওনা ফেরত পেতে পারেন।
ইভ্যালির ঘটনার পর ই-কমার্স খাত নিয়ে নীতিমালা হয়েছে। ক্যাশ অন ডেলিভারী, ব্যবসায়ীক নিবন্ধন, গ্রাহকের অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়গুলো যুক্ত করে শৃংখলা নিশ্চিতের চেষ্টাও আছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ইভ্যালিকে ফিরতে হলে পেরুতে আইনি ধাপ। তাদের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-ক্যাবের সহসভাপতি শাহাব উদ্দিন শিপন বলেন, ইভ্যালি যদি স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করতে পারে তা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্যেও ইতিবাচক হবে।
প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ ইভ্যালি। হাইকোর্টের আদেশে গঠিত একটি পরিচালনা পর্ষদ আপাতত এটির দেখভাল করছে। তাদের হাত ধরে শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে ইভ্যালির অতীত কর্মকাণ্ডের অডিট রিপোর্ট।
এদিকে, গত ৬ এপ্রিল জামিনে কারামুক্তি পান প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। এর কিছু দিন পর ইভ্যালিকে পুনরায় চালু করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশে গঠিত বোর্ডের কাছে আবেদন করেন তিনি।
তার আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে। একই আবেদনে তাকে (শামীমা নাসরিন), তার মা ও বোনের স্বামীকে পরিচালনা বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গেলো বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে র্যাব। বন্ধ করে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির সব অফিস। এর এক মাস পরে বন্ধ হয় ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ।
একাত্তর/এআর