অভিনব কায়দায় জমির দাম ১০ গুণ বাড়িয়ে কোম্পানি থেকে লোপাট করা হয় হাজার
কোটি টাকা। ১৪ কোটি টাকার জমিতে বালু ফেলার নামে তোলা হয়েছে দুশো কোটি টাকা।
আর, কোম্পানির এফডিআর ব্যাংকে জমা রেখে, ব্যক্তিগত ঋণের নামে পরিচালকদের পকেটে ঢুকেছে আরো কয়েকশ কোটি টাকা।
এভাবেই ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরন্সে থেকে, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সাবেক পরিচালকরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনের একটি ভবনসহ জমিটি ২০১৪ সালে প্রায় ২০ কোটি টাকায় ক্রয় করেন জনৈক মফিজুল ইসলাম।
এক বছর পর ২০১৫ সালে ৩২ শতাংশের সেই জমি ২০৭ কোটি টাকায় কিনে নেয় বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
ভূমির কোন উন্নয়ন ছাড়াই মাত্র ১০ মাসে কিভাবে একটি জমির দাম ৯ গুণ বেড়ে ২০৭ কোটি টাকা হলো? অনুসন্ধানে জানা যায় ক্রেতা-বিক্রেতা সর্ম্পকে জামাই-শ্বশুর।
শ্বশুরের মাধ্যমে কোম্পানির দেড়শ কোটি টাকা পাচার করতেই জামাতা তথা ফার ইষ্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এই অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেন।
এখানেই শেষ নয়। গোড়ান চট বাড়িতে সাড়ে ১৪ কোটি টাকার জমি কিনে বালু ফেলার নামে খরচ দেখানো হয় ১৪২ কোটি টাকা।
দুই কোটি টাকার ভূমি রেজিষ্ট্রেশন খরচের বিপরীতে তুলে নেয়া হয় ৭৭ কোটি টাকা। এই জমি কেনার নামেও হাতিয়ে নেয়া হয় ২০০ কোটি টাকা।
তোপখানা রোডে চারতলা ভবনসহ ২২ কোটি টাকার জমি চার মাসের মাথায় ২০৭ কোটি টাকায় কিনে নেয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
সেখানেও কোম্পানির দুশো কোটি টাকা বের করে নেন ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। এমন তথ্য দিলেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা।
ফারইস্টে এফডিআর বন্ধ করে ব্যক্তিগত নামে ব্যাংক থেকে ৮১৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে লোপাট করেছেন কোম্পানির পরিচালক এম এ খালেক ও নজরুল ইসলামরা।
আরও পড়ুন: স্ত্রীসহ অতর্কিত হামলার শিকার বরকত উল্লাহ বুলু
সব মিলিয়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নজরুল-খালেকসহ তিন পরিচালক এখন জেল হাজতে।
দীর্ঘ দিনেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এসব দুর্নীতি বন্ধের কোন উদ্যোগ না নেয়াকে দুঃখজনক বলছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
দুর্নীতি অনিয়ম দায়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে স্বাধীন পর্ষদ গঠন করে।
পরবর্তীতে নতুন উদ্যোক্তাদের দ্বারা গঠিত বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করছে বলে জানায় ফারইস্ট।