দেশে প্রথমবারের মতো লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড ড্রাগ (এলএসজি) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় আটক করা হয়েছে তিনজনকে। গতকাল বুধবার (২৬ মে) দিবাতগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া এলাকায় ডিএমপি রমনা বিভাগের গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে এ মাদক ও সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করে বলে জানায় ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
হাফিজ বলেন, লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড যাকে ‘এলএসডি’ ড্রাগ বলে। পাশ্চাত্য বিশ্বে একে hallucinogenic drug বলে। উক্ত মাদক ব্লট আকারে পাওয়া যায়। যা খুব ছোট একটি কাগজের টুকরো সাদৃশ্য মাদক মিশ্রিত বস্তু। এই মাদকের ব্লট জিহ্বার নিচে বা ওপরে দিয়ে নেশা করা হয়।
গোয়েন্দা রমনা বিভাগ ধানমণ্ডি ও লালমাটিয়া এলাকায় অভিযান করে এলএসডি মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সাদমান সাকিব ওরফে রূপল (২৫), আসহাব ওয়াদুদ ওরফে তূর্য (২২) ও আদিব আশরাফ (২৩)। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
তিনি আরও জানান, আটকের সময় তাদের হেফাজত হতে দুইশ ব্লট এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) মাদক উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য ছয় লাখ টাকা।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তার সাদমান নেদারল্যান্ড হতে মেইল ও চিঠির মাধ্যমে ডাক টিকিটের মত দেখতে এই মাদকটি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় একটি ব্লট কেনে। এক নেদারল্যান্ড নাগরিকের কাছ থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপস্ -এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে পেপাল মেইল -এ টাকা পাঠায় এবং কুরিয়ার সার্ভিস পার্সেলের মাধ্যমে এ মাদক গ্রহণ করে।
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, তাদের একটি ফেসবুক আইডি রয়েছে। যার নাম ‘আপনার আব্বা’ এবং একটি গ্রুপ আছে যার নাম ‘বাটার, ব্রাউনি এন্ড বিয়ন্ড’। এই গ্রুপে এক হাজার সদস্য রয়েছে। গ্রেপ্তার সাদমান, আসহাব ওয়াদুদ ও আদিব আশরাফ তিনজন একত্রে এই ফেসবুক আইডি ও গ্রুপের মাধ্যমে উক্ত মাদকটি বিক্রি করতেন। এটি নতুন ও দামী মাদক হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃতরা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতো।
তিনি আরও জানান, পৃথিবীর উন্নত দেশে এটি নিষিদ্ধ ড্রাগ। এমন কি এটির কেনাবেচা বাংলাদেশের প্রচলিত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই এলএসডি মাদকসহ অন্য মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নতুন ভয়ংকর এই ড্রাগের যাতে বিস্তার লাভ করতে না পারে সে জন্য ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্ব-সাধারণের এ ড্রাগের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
একাত্তর/এআর/আরএ