১৯ বছর পর শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকার বাড্ডা থেকে ১৯ বছর আগে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

নারায়ণগঞ্জে আলীরটেক এলাকার শিশু খাদিজা আক্তার (১০) গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়র অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চারজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত। এই মামলার চার আসামীই পলাতক রয়েছেন। 

উল্লেখ্য ২০০৩ সালের ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলীরটেক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় আসামিরা। খাদিজাকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে ফেলে যায়। পরদিন সকালে খাদিজার লাশ খুঁজে পায় স্বজনেরা। 

এ ঘটনায় খাদিজার বড় ভাই আনসার আলী বাদী হয়ে ওই চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ বছরেও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গ্রেপ্তার সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, ঘটনার দিন দুপুরে ভিকটিম খাদিজা (১০) এবং তার এক প্রতিবেশী বান্ধবী আলীরটেকে অনুষ্ঠিতব্য একটি মাহফিল দেখার জন্য সুজনের বাড়ীতে যায়। সুজন নিহত ভিকটিমের দুঃসম্পর্কের আত্নীয় বলে জানা যায়। সুজনের বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে প্রতিবেশী বান্ধবীর খালার বাসায় তারা বেড়াতে যায় শিশু খাদিজা। পরবর্তীতে রাত হয়ে গেলে ভিকটিমের বান্ধবী তার খালার বাসায় থেকে যেতে চায়। ইতিমধ্যে পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুজন ভিকটিমকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সাথে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে সুজন এবং ওৎ পেতে থাকা তার আরও তিন সহযোগী পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিমকে জোরপূর্বক একটি সরিষা ক্ষেতে নিয়ে ভিকটিমের পরিহিত পোশাক দিয়ে হাত, পা এবং মুখ বেধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে তারা ভিকটিমের বুকের পাজর, হাত ও পা বিকৃত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্নক জখমসহ শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারা এতই নৃশংস ছিল যে মৃত্যু পরও ধর্ষণ চালিয়ে যায়। ধর্ষণ শেষে লাশটিকে সরিষা ক্ষেতে রেখে সবাই পালিয়ে যায়।   

বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত, নারায়ণগঞ্জ বিচার শেষে মামলার পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ায় গত ১১ জুন ২০১৮ তারিখে চার গণধর্ষককে উক্ত আইনের উক্ত ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত পূর্বক মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার আদেশ দেন। বিজ্ঞ আদালত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৬৮ ধারায় বর্ণিত বিধান মোতাবেক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত উক্ত আসামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কর্যকর করার আদেশ প্রদান করেন।

আসামীর ভাষ্যমতে ঘটনার পর পরেই সে দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্নগোপন করে। দীর্ঘদিন পর সে নারায়ণগঞ্জে ফেরত এসে পরিচয় গোপন করে ২ নং রেলগেটস্থ একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করা শুরু করে এবং এই পেশাকে গ্রেপ্তার এড়ানোর ঢাল হিসেবে বেছে নেয়। এর মধ্যেই সে নিজের নাম এবং বয়স পরিবর্তন করে ২০১৪ সালে পাসপোর্ট ও ২০১৬ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করে। দীর্ঘদিন চাকুরী করে ২০১৭ সালে সে ইরাকে গমন করে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসে। দেশে ফিরে সে জমি সংক্রান্ত ব্যবসায় জড়িত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের মার্চ মাসে সে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করলেও সুবিধা করতে না পেরে ৩ মাস পর দেশে ফেরত আসে। দেশে ফেরত এসে সে আত্নগোপনে অবস্থান করতে থাকে। অবশেষে সে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়ে।

এই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্য ০৩ আসামীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 


একাত্তর/এআর