ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে থার্টিফার্স্ট নাইট বা ৩১ ডিসেম্বর রাতে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, সমাবেশ, নাচ, গান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন না করতে নগরবাসীদের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক একইসঙ্গে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো থেকেও সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
এছাড়া, থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন ঘিরে ডিএমপির ১৩ দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।
ভবনের ছাদে উৎসব আয়োজনে নিষেধাজ্ঞাসহ থার্টি ফার্স্ট বা খ্রিস্টীয় নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে পটকা ও আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানোসহ যেকোনো ধরণের অশোভন আচরণ ও বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
এছাড়াও আরও যা আছে ডিএমপির নির্দেশনায়:
১. ঢাকা মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে এবং প্রকাশ্যে স্থানে কোনো ধরণের জমায়েত/ সমাবেশ/ উৎসব করা যাবে না।
২. উন্মুক্ত স্থানে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোনো ধরণের অনুষ্ঠান করা বা সমবেত হওয়া যাবে না বা নাচ, গান ও কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।
৩. কোথাও কোনো ধরণের আতশবাজি/পটকা ফোটানো যাবে না।
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করতে পারবে।
৬. গুলশান ও বনানী এলাকায় রাত ৮টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না। তবে ওই এলাকায় বসবাসরত নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী-আমতলী ক্রসিং দিয়ে পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবে।
৭. একইভাবে উল্লেখিত সময়ের পর সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যেসব নাগরিক বসবাস করেন না তাদের বর্ণিত এলাকায় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
৮. রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।
৯. গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
১০. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না।
১১. রাত ১০টার পর সব ফাস্টফুড দোকান বন্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন, উদ্বোধন রোববার
১২. সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে পারবে। তবে কোনোভাবেই ডিজে পার্টি করতে দেওয়া যাবে না।
১৩. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরণের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
একাত্তর/জো