মশা নিধনের প্রচলিত পদ্ধতিকে ভুল বললেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তার মতে সবার আগে প্রয়োজন মশার ধরন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা।
তাই দ্রুতই এ সংক্রান্ত একটি ল্যাব স্থাপনের কথা জানালেন তিনি। এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
মেয়র আতিক আরও জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। খুব দ্রুতই এনিয়ে নিয়ে কাজও শুরু হবে।
কখনো এডিস, কখনো বা কিউলেক্স। মশার সাথেই ঢাকাবাসীর বসবাস। বছরের বিভিন্ন সময়ে মশার উৎপাতে অতিষ্ট হওয়াই যেনো এই নগরবাসীর নিয়তি।
সকাল-বিকাল ওষুধ ছিটানো, চিরুনি অভিযান; নগর প্রশাসনের এমন অনেক উদ্যোগই মশারা ব্যর্থ করে দেয়। ফলে রাজধানীবাসীর কারণে এক বড় যন্ত্রণার নাম মশা।
তাহলে মশার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় কি? ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলছেন, এখন যে প্রক্রিয়ায় মশা নিধনের চেষ্টা চলছে তা একদমই ভুল।
তিনি বলেন, মশার উৎপাত থেকে রাজধানীবাসীকে রক্ষা করতে এতদিন যে পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিলো তা ভুল। তবে, সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগে আরও সময় লাগবে।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সবার আগে প্রয়োজন মশা নিয়ে গবেষণা ও ল্যাবরেটরি স্থাপন করা। আপাতত পূর্বের পদ্ধতিতেই চলবে মশা নিধন।
মেয়র আতিক বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে মশা নিধনে যেতে সময় লাগবে। এখন মশা নিধন পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়, মশা উৎপাত বাড়বে। তাই আপাতত একই নিয়মে মশা নিধন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য জনবল প্রয়োজন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের ল্যাব প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাবও ব্যাবহার হবে।
মেয়র বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক মশা নিধনে কাজ করতে হবে। এজন্য জনবল প্রয়োজন। এরপর এলাকাভিত্তিক মশার ধরন শনাক্ত করে আলাদা আলাদা ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
এর আগে ২০ সদস্য বিশিষ্ট দল সফরে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে। সেখানে মশা নিধন কার্যক্রমের নানা দিক শিখিয়ে দেন মিয়ামি ডেড কাউন্টি কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞরা।
সেখানে মেয়র আতিকসহ প্রতিনিধি দলকে শেখানো হয়, প্রথমে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে খুঁজে মশার প্রজননস্থল থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা ও মশার ডিম সংগ্রহ করা হয়।
পরীক্ষাগার বিশেষজ্ঞরা মশা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে প্রজাতি নির্ধারণ করে দেন। পরে মশার প্রজাতি অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধনের কাজ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে ফগিংকে গুরুত্ব না দিয়ে লার্ভিসাইডিংকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মোট বাজেটের ৮০ শতাংশই খরচ হয় লার্ভিসাইডিংয়ে।
আরও পড়ুন: বিএনপি সারাদেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে: কাদের
বিষয়টি জানার পর মেয়র যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ঘোষণা দেন, দেশে ফিরে অর্থ অপচয় না করে লার্ভিসাইডিংয়ে (লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানো) মনোযোগী হবেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও নগর পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দেন।
ঢাকা উত্তরকে সিস্টার সিটির স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট সিটি। এখন থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই শহরের নগর প্রশাসন নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।
একাত্তর/আরএ