পোস্টার আর দেয়াল লিখনে দৃষ্টিদূষণের কবলে রাজধানী

রাজধানী ঢাকায় দিন দিন মাত্রা ছাড়াচ্ছে দৃষ্টিদূষণ। ব্যানার আর পোস্টারে সয়লাব পুরো রাজধানী। ব্যানার-পোস্টারের জঞ্জাল সরাতে ঢাকা উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা পোস্টার স্ট্যান্ড বসিয়েও কাজ হচ্ছে না। নগরবিদরা জানান, যারা নিজেদের প্রচারে পোস্টার মারেন, তাদের সচেতন করতে পারলে এই অপতৎপরতা কিছুটা বন্ধ হবে। 

বছরটা নির্বাচনের, প্রচার আর প্রচারণার। পোস্টার আর ব্যানারের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে অনেকগুণ। শুধু রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানারই নয় স্কুল-কলেজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা সিনেমার পোস্টারের আধিক্যও রাজধানী জুড়ে। পোস্টার দূষণে হতচ্ছাড়া অবস্থা নগরীর।

দেয়ালের পাশাপাশি এমন দৃষ্টিদূষণ এখন মেট্রোরেল আর ফ্লাইওভারের পিলার জুড়ে। এই অবস্থায় শহরটাকে সুন্দর রাখতে মগবাজার ফ্লাইওভারের পিলার জুড়ে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। শিল্পীরা পথ দেখিয়েছেন পিলারগুলোতে দৃষ্টিনন্দন ও পোস্টার মুক্ত রাখার। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক দলের দাবি-দাওয়া আর শুভেচ্ছা পোস্টারে ভরে গেছে মেট্রোরেলের পিলার। এমনকি পিলারের গায়ে দেওয়াল লিখনও বাদ যাচ্ছে না। এ কারণে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে এ প্রকল্পের বাহ্যিক চেহারা।


ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রতিটি ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে পোস্টার লাগানোর নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড। মাসখানেক হলো উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত পাঁচটি করে পোস্টার স্ট্যান্ড বসানো হচ্ছে। যত্রতত্র পোষ্টার লাগানো বন্ধে এমন উদ্যোগ। অথচ পোস্টার নেই কেবল এসব স্ট্যান্ডেই।   

নগরবিদরা বলছেন, আইনের প্রয়োগ না থাকায় শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সবাই উদাসীন। শুধু আইনের প্রয়োগ নয় পোষ্টারমুক্ত নগরী গড়ার অভিযানে অভিযানে যুক্ত করা যেতে পারে প্রভাবশালী ব্যাক্তিদেরও। না হলে কোন পদক্ষেপই কাজে আসবে না। 

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নগরের নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় যত্রতত্র দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানোকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

আরও পড়ুন: হাসিনা-কিশিদা শীর্ষ বৈঠক আজ

দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো আইন ২০১২- একদম অকার্যকর হয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা এই আইন ভেঙ্গে দৃষ্টি দূষণ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ফলে সাধারণ মানুষ ও এই আইন মেনে চলতে উৎসাহ বোধ করেন না


তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি এলাকায় পোস্টারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত না থাকায় এতোদিন কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে এখন আইনের প্রয়োগ আর সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন তারা।

এর আগেও ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে পরীক্ষামূলকভাবে পোস্টার স্ট্যান্ড লাগানো হলেও খুব একটা সফলতা দেখা যায়নি। তবে এবার কাগজের পোস্টারের বদলে ডিজিটাল প্রচারণায় উৎসাহিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্য কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।


একাত্তর/আরবিএস