দখলদারদের দৌরাত্মে বিলীন হতে বসেছে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার শত বছরের একটি পুকুর। পুকুরটি রক্ষায় শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচী ডেকেছিলো এলাকাবাসী। কিন্তু অনুমতি না থাকার অজুহাতে সেই কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি পুলিশ।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা বলেছেন, জলাধার রক্ষা আইন অমান্য করেই পুকুরটি ভরাট করে দখলে নেয়া হচ্ছে। এটি রক্ষায় প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, গেণ্ডারিয়াবাসী কোনোভাবেই পুকুরটি হারাতে দেবে না।
পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া। ঘিঞ্জি এই এলাকায় খোলা জায়গা বলতে রয়েছে ডিআইটি প্লট পুকুর। শত বছরের পুরনো পুকুরটিকে ঘিরে মানুষের হাজারো স্মৃতি। কয়েক বছর আগেও এখানে গোসল করত এলাকাবাসী, ধোয়ামোছা চলতো।
কিন্তু দখলদারদের দৌরাত্মে শতবর্ষী পুকুরটি এখন নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। চারপাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। দেড় একরের পুকুরটির প্রায় অর্ধেকই এখন বেদখলে। পুকুরের ভেতরে এমন করে দোকান-মার্কেট হয়েছে যে, সড়ক থেকে বোঝাই যায় না, পেছনে একটি পুকুর আছে।
রাজউক ১৯৬৩ সালে গেণ্ডারিয়ায় ১৩ দশমিক ৫৭ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। এর মধ্যে দুই একরের এই পুকুরও ছিলো। যার বয়স বর্তমানে প্রায় ১০০ বছর। সেই পুকুর ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করে, এখন ভরাট করার প্রতিযোগিতা চলছে।
তাই, পুকুর রক্ষার দাবিতে শুক্রবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচী ডেকেছিলো এলাকাবাসী। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না থাকার অজুহাতে সেই কর্মসূচি তারা পালন করতে পারেনি। উল্টো দখলদারদের পক্ষ নিয়ে মানববন্ধনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় অবস্থান নেয় একটি গ্রুপ।
রাজধানীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের গেণ্ডারিয়া ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় ওই মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিলো। তাদের অভিযোগ, মানববন্ধনের স্থানে রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছিলো অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কর্মীরা। এতে সংঘাতের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে মানববন্ধন করতে দেয়নি পুলিশ।
ডিআইটি পুকুর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম আহমেদ রিপন বলেন, আমরা মানববন্ধন করার বিষয়টি বৃহস্পতিবারই শ্যামপুর থানা ও পুলিশের ওয়ারি জোনে জানাই। কিন্তু রাতে ওসি আমাকে ডেকে বলেন, এই আয়োজন করা যাবে না।
তিনি বলেন, অনুমতির দোহাইয়ে আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয়নি। তবে আমরা শিগগরিই অনুমতি নিয়ে আরও বড় করে প্রোগ্রাম করবে। আমরা গেণ্ডারিয়াবাসী কোনোভাবেই আমাদের পুকুরটি হারাতে দেব না। এই পুকুর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় পুকুরপাড়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জলাধার আইন, পরিবেশ আইন ও ড্যাপ অনুযায়ী পুকুর ভরাট করার বৈধতা নেই।
আরও পড়ুন: গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, সহসা মিলবে না বৃষ্টি
তিনি বলেন, পুকুরের মালিকানা নিয়ে ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, সেটি অন্য বিষয়। কিন্তু জলাধার না থাকায় শহরে তাপ, বায়ুদূষণ এবং অগ্নি দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে ভয়াবহভাবে। তাই আমরা চাই এই পুকুরটি যেন কোনোভাবে না হারায়।
পুকুরটির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা ছিলো। এক সময় এটিকে রাজউক পুকুর বলা হতো। পরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা হিসেবে এটির মালিকানা দাবি করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, মালিকানা যারই হোক, পুকুরটি টিকে থাকুক। পাশাপাশি সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রকল্প নেয়া হোক।
একাত্তর/এসজে