বর্ষার শুরু হতে না হতেই ভয়াবহ রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে ডেঙ্গু। বৃষ্টির এই সময় মশাবাহিত এই রোগটি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গেলো ২৪ ঘন্টাতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় মারা গেছেন চার জন। একই সময় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যা এই সময়ে অতীতের চেয়ে অনেকে বেশি।
বর্ষা শুরুর আগেই রোগী ও মৃত্যুর এই হারকে উদ্বেগজনক বলছেন চিকিৎসকরা। ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষের সাথে ডেঙ্গুও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন তারা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগি। ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রতিমুহুর্তেই রোগী আসছে। যাদের বেশির ভাগকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।
দক্ষিন সিটি এলাকায় মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পর এখন ঢাকা মেডিক্যালেই সবচেয়ে বেশি রোগী। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।
রোগী বাড়ছে উত্তর সিটির সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও। প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এই হাসপাতালে। বেশিরভাগ রোগী আসছে মোহাম্মদপুর, কাজীপাড়া, শেওরাপাড়া থেকে।
ভর্তি হওয়া রোগীদের সবাই শক সিনড্রোম বা হেমারেজিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, শনিবার একদিনেই মারা গেছে চারজন। একই দিনে নতুন করে রোগী ভর্তি হয়েছে চারশ ৭৭ জন রোগী।
১-১৭ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার হাজার ৬০৩ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৫৭৫ জন।
গেলো বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
জুনের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে মারা গেছে ২০। রোগী ভর্তির হারও বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঢাকায় রোগী বাড়ায় ঈদ ছুটিতে সারাদেশেই ডেঙ্গু ছড়ানোর শঙ্কা দেখছেন চিকিৎসকরা।
একাত্তর/এআর