ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কমে আসছে দুর্ভোগ

এবারের ঈদ যাত্রায় কমেছে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুর্ভোগ। উত্তরা থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত ফ্লাইওভার খুলে দেয়ার পর যানজট পরিস্থিতি অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। 

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগও বলছে গেলো কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। যদিও বিকেলের দিকে চন্দ্রা ও সাভার বাইপাইল এলাকায় বাড়ে গাড়ির চাপ। 

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল আযহার ছুটি। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। গাজীপুরের ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাড়ছে গাড়ির চাপ।

উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের ২৯টি জেলার মানুষের রাজধানী ও গাজীপুরে প্রবেশের দ্বার হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। এই মহাসড়কে প্রতিদিন লাখ লাখ যানবাহন চলাচল করে। 

ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে এ সময়ে যানজটে আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। কয়েক বছর ধরে এ মহাসড়কে বিআরটি প্রকল্প চলমান থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা। ১২ কিলোমিটারের এই সড়ক পাড়ি দিতেই সময় লাগতো তিন থেকে চার ঘন্টা। ঈদ যাত্রায় সেই ভোগান্তি আরো চরমে উঠতো। 

কিন্তু এবার ঈদের আগে রাজধানীর উত্তরা থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত ফ্লাইওভার খুলে দেয়ায় তেমন কোন যানজট চোখে পড়েনি। খানাখন্দের কারণে কোথাও যানবাহনের গতি ধীর ছিলো। 

কয়েকদিন আগেও স্টেশন রোডের চৌরাস্তা সিগন্যাল পার হতেই বাসগুলোকে অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে এবার এই সিগন্যাল পেরুতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। 

কিন্তু ফ্লাইওভার থেকে নামার পর কলেজ গেট এলাকায় গাড়ির গতি হয়ে পড়ছে ধীর। একদিকে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান। 

আর, এই কাজের কারণে সড়কে খানাখন্দ। ফলে, এই পয়েন্টে খানিকটা দুর্ভোগ এখনও রয়ে গেছে। যাত্রীরা জানতে চান, কবে নাগাদ শেষ হবে এই প্রকল্প। 

তবে সড়কে তৎপর গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ। সড়কে এমন সঙ্কট থাকা পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ সদস্য। সড়ক সচল রাখতে ঘুমকে হারাম করেছেন তারা।

মঙ্গলবার সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে, চলবে ঈদ পর্যন্ত। তখন বৃষ্টি হলে যানবাহনের গতি কমে গেলে যানজটের আশঙ্কা করছেন অনেক।

পুলিশ বলছে, মহাসড়কে যানজট নিরসনে সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বৃষ্টি বাড়লে এবং এই পথে অতিরিক্ত যানবাহন ঢুকলে কলেজগেট এলাকার ভোগান্তি হবে। 

এদিকে, বিকেলে সরকারি বেসরকারি অফিস ও পোশাক কারখানা ছুটির পর চন্দ্রা ও বাইপাইল এলাকায় তৈরী হয় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। 

দুপুরের পরই গাবতলী থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক পর্যন্ত গাড়ির গতি হয়ে পড়ে ধীর। যানজট কমাতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে।


একাত্তর/এআর