তারেক-জোবায়দার দুর্নীতি মামলার রায় বুধবার

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী বুধবার। 

বৃহস্পতিবার এ দিন ঠিক করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান। এর আগে দুদকের হয়ে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। 

গত ২৪ জুলাই মামলার সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়। ওইদিন সাক্ষী দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তখনকার উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। মোট ৫৭ জনের মধ্যে ৪৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন।  

চার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান পলাতক রয়েছেন। স্ত্রী জোবায়দাকে নিয়ে গত প্রায় ১৫ বছর তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। 

একুশে অগাস্টে শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান আরও তিনটি মামলায় আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত। এগুলোর মধ্যে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর, অর্থ পাচারের দায়ে সাত বছর এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। 

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় গত ১৩ এপ্রিল তারেক রহমান ও জোবায়দার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২১ মে। 

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক। 

অভিযোগে বলা হয়, ঘোষিত আয়ের বাইরেও চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে তারেক ও জোবায়দার। মামলায় আরেক আসামি ছিলেন তারেকের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু।

এই তিনজনের বিরুদ্ধেই ২০০৮ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। উচ্চ আদালতে আবেদন করে মামলা থেকে পার পেয়ে যান ইকবাল মান্দ বানু।

জোবায়দার পক্ষ থেকেও মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকার পর গত বছর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চের আদেশের পর নিম্ন আদালতে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। 

এই মামলায় গত ৫ জানুয়ারি তারেক ও জোবায়দার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে ১৯ জানুয়ারি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো.আছাদুজ্জামান।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।


একাত্তর/আরবি