ডেঙ্গু শনাক্তে সিবিসি ও প্লাটিলেট পরীক্ষার ওপর জোর

উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগের ধরন পাল্টে যাওয়ায় ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রচলিত কিটে এটি ধরা পড়ছে না।

এর ফলে অনেক রোগীর অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় রোগীদের রক্তের সিবিসি পরীক্ষা ও প্লাটিলেট কাউন্টের ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

১০ বছরের এক শিশুর গেলো ১৫ দিন ধরেই জ্বর। থেমে থেমে জ্বর আসছে। জ্বরের সাথে মাঝে মাঝে বমি, পেটে ব্যথার মতো ডেঙ্গুর উপসর্গও আছে। কিন্তু ডেঙ্গু পরীক্ষায় ফলাফল আসছে নেগেটিভ। 

তাই তার সাধারণ জ্বরের চিকিৎসাই চলছিলো। ১৪ দিন পর আবারও পরীক্ষা করানো হলে শিশুটির ডেঙ্গু ধরা পড়ে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এখন গড়ে প্রতিদিন আড়াই হাজারের বেশি রোগীর ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। কিন্তু এর চেয়েও আরও বেশি রোগী সনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে। 

এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে এখন তিন থেকে পাঁচ ধরণের কিট দিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত এই কিটে ডেঙ্গু ধরা পড়ছে না। 

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ড. সাইফউল্লাহ মুনসী বলেন, বিশ্বে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ধরণের কিট রয়েছে। এগুলো নিয়ে যেসব আন্তর্জাতিক গবেষণা হয়েছে সেখানে দেখা গেছে, এদের সেনসিটিভিটি এবং স্পেসিফিটিতে ভ্যারিয়েশন আছে।

কোনো কিটের সেনসিটিভিটি ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ হলে, স্পেসিফিসিটি হতে পারে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ। তাই কিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে ও ভালো মানের কিট ব্যবহার করতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ১৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭৪২

এবারের ডেঙ্গুর ধরন পাল্টে যাওয়াও এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর সমস্ত লক্ষণ ডেঙ্গুর সাথে মিলে গেলেও পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার কারণ হতে পারে এটি। 

এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের সাধারণ সিবিসি পরীক্ষা, প্লাটিলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।


একাত্তর/এসজে