করোনাভাইরাস: একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো দেশ

দেশে করোনায়ভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২৭ জুন দেশে একদিনে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। যা সংখ্যার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এছাড়া ২৯ জুন ও ১৯ এপ্রিল দেশে করোনায় ১১২ জন করে মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আরও ৮ হাজার ৩০১ জন সংক্রমিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯ লাখ ২১ হাজার ৫৫৯ জন।

নতুন মৃত্যু নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু হলো ১৪ হাজার ৬৪৬ জনের।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৩ জন। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় রোগী শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৯০ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য আট আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৫৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়াই শতাধিক আটক

২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৯২৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩২ হাজার ৫৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৮২টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৫টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮১৭টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৪৩ জনের মধ্যে পুরুষ ৯০ জন আর নারী ৫৩ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ১০ হাজার ৪১৫ জন আর নারী চার হাজার ২৩১ জন। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৭০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৪২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১১ জন, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী একজন আর শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী একজন।

মারা যাওয়া ১৪৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৯ জন, খুলনা বিভাগের ৪৬ জন, বরিশাল বিভাগের আট জন, সিলেট বিভাগের সাতজন, রংপুর বিভাগের ১০ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন তিনজন। সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১০৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ২৩ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন ১১ জন।

আরও পড়ুন: দুইদিনে দেশে আসছে মডার্না ও সিনোফার্মের ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

এদিকে দেশে করোনার সংক্রমণে বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে সাত দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে পুলিশ, র‌্যাবসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর ভূমিকায় ছিলো। রাজধানীর রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে সকাল থেকেই। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সকাল সেনাবাহিনীর সদস্যদের গাড়ি নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

এবারের লকডাউন বাস্তবায়নে ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ-পর্যায়ের কার্যকর টহল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে।



একাত্তর/আরএ