দক্ষিণ সিটির ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, নগরবাসীর ভোগান্তি

রাতের বিরতিহীন বৃষ্টিতে তলিয়ে গিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) কদমতলী ও ডেমরা থানার নিম্নাঞ্চল।

সরেজমিনে রাজধানীর ৫২, ৬০, ৫৯ ও ৬৫ নং ওয়ার্ডে ঘুরে স্বল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার দৃশ্য চোখে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় এই অঞ্চলের রহমৎপুর কেরানিপারা মোমেনবাগসহ আশপাশ এলাকা।

এছাড়া ৫৪ নং ওয়ার্ডে আলমবাগ এলাকায় হাজেরা স্কুল গলি, অনির্বাণ ক্লাবসহ ৫টি বিদ্যালয়। প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে নেই সুয়ারেজ বা ঢাকা ওয়াসার সেবা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে ও এই এলাকার মানুষ সিটি কর্পোরেশনের এই সকল সেবা থেকে বঞ্চিত। কে বা কি কারণে ওয়াসা বা সুয়ারেজ বসানো হচ্ছেনা তা স্বয়ং ওয়ার্ড কাউন্সিলরই জানেন না। এ ছাড়া এই এলাকার পাশ দিয়ে পদ্মা-সেতুর রেল লাইনের রাস্তার কাজ চলছে যার কারণে ভোগান্তির শেষ নেই।

৫৩ নং ওয়ার্ড বা খোরশেদ আলী সরদার রোড নবারুন গলি, চেয়ারম্যান গলি, নুরানী মসজিদ রোড, ওয়াসা মিষ্টির দোকানের অবস্থাও বেশ নাজুক। ৫৯ নং ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলের অবস্থাও খারাপ। মেরাজ নগর, ঢাকা ম্যাচসহ আশপাশে তলিয়ে ভয়াবহ জন-দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

৫২ নং ওয়ার্ডের বিড়ি ফ্যাক্টরি রাস্তা, রজ্জব আলী সরদার রোড, লাল মিয়া মরদার রোড, নোয়াখালী পট্টি, কুদার বাজার, মুরাদপুর স্কুল রোড, হাঁটু পানিতে সয়লাব, হাট-বাজার ডুবে গেছে, অল্প বৃষ্টিতে পানি ঢুকে পড়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মৃত্যু মানছে না বিধি-নিষেধ

দক্ষিণ সিটির ৬৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুল আলম ভূইয়া সেন্টু বলেন, নব গঠিত ডিএসসিসির ৬৫নং ওয়ার্ড আগে ছিলো ইউনিয়ন পরিষদ। তাছাড়া খালগুলো ছিলো ওয়াসার তত্ত্বাবধানে। আর এসব খাল পুনঃ-খনন না করায় দিনকে দিন ময়লা আবর্জনায় ভর্তি হয়েছিলো। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভূমি দস্যুরা অনেক জায়গা দখল করে পাকা বাড়ি, দোকানপাট তুলেছে। কিছুদিন আগে মাত্র এসব খালের দায়িত্ব পেয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিলুপ্ত হওয়া এই খালগুলো উদ্ধারসহ খননের কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল সম্পূর্ণ খননের কাজ শেষ হবে। তখন আর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশাবাদী আমরা।


একাত্তর/আরএ