রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে গেলো ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের মধ্যে তারা মারা যান।
শুক্রবার (২ জুলাই) রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর ৫ জন ভর্তি ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে।
জানা যায়, মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ১০ জন , তিনজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, নাটোরের দুইজন, নওগাঁর একজন ও পাবনার একজন করে। হাসপাতালটিতে গত দুদিনে ৩৯ জনের মৃত্যু হলো।
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর এবং ভারতে ছড়িয়ে পড়া ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-নওগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জুন থেকে এই এলাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। গত জুন রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটেই শুধু মারা যান ৩৫৪ জন।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪০৫ শয্যার বিপরীতে ৪৬৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনেও বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও পাড়া মহল্লার গলিপথেও টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। অন্যান্য সময় সাপ্তাহিক বাজারের জন্য শুক্রবার কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষের ভিড় থাকলেও সকালে তা লক্ষ্য করা যায়নি। এখন পর্যন্ত শহর প্রায় ফাঁকাই রয়েছে।
তবে রাজশাহী মহানগর ও জেলায় জরুরি সেবাসমূহ চালু রয়েছে আগের মতোই। এর মধ্যে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও খাবার পরিবহনের যানবাহনগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলাচল করছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে ওষুধের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি এবং প্রতিটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুইটি করে টিম টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মাঠ পর্যায়ে বিধিনিষেধ কার্যকরে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজশাহী শহরের তিনটি প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
একাত্তর/আরএইচ
