গেলো সাত বছরে দেশে অসংখ্য অবৈধ ব্যাটারির কারখানা তৈরি হয়েছে। বন্ধ হওয়া কোনো কারখানার জায়গা ভাড়া নিয়ে দেশে এসব অবৈধ কারখানা তৈরি করছে চীনা ব্যবসায়ীরা। পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন কারখানা তৈরির কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও তারা থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার এসব তথ্য জানা। কিন্তু অজানা কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
নারায়ণগঞ্জের মৈকুলি বাজারের পাশের এই কারখানাটি এক সময় টেক্সটাইল মিল ছিল। গত চার বছর ধরে এখানে ব্যাটারি তৈরি হচ্ছে। বাইরে কোনো সাইন বোর্ড নেই। ব্যাটারির নাম কি তাও কারও জানা নেই। এলাকাবাসী শুধু জানেন- এই ব্যাটারি কারখানা চাইনিজদের মালিকাধীন। একাত্তরের ক্যামেরাতেও দেখা যায় দেশীয় কর্মীদের সঙ্গে আছেন কয়েকজন চাইনিজ নাগরিক। যারা কাজের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
এই কারাখানা থেকেও রাতের বেলা এসিড গ্যাস, ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) ও তীব্র ধোঁয়ার গন্ধ পান মানুষ।
প্রতিবাদে গেলো রমজান মাসে সড়ক অবরোধ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপি দিয়েছেন ইউএনও ও পৌর মেয়রের কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
কথা হয় ১৭ বছর ধরে কাজ করা অবৈধ ব্যাটারি কারখানার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, প্রভাবশালীদের জমি ভাড়া নিয়েই কারখানাটি চালাচ্ছে চাইনিজরা। তাদের সঙ্গে একজন দোভাষি থাকেন। তারাই সব কিছু ম্যানেজ করেন। জমি বা কারাখানা ভাড়া নেওয়া হয় এমন সব প্রভাবশালীর কাছ থেকে; যাদের বিরুদ্ধে বলার সাহস কেউ রাখেন না।
আলীর তথ্যের সত্যতা মেলে নারায়গঞ্জের বন্দরথানার মদনপুরের আরেকটি বড়ো ব্যাটারি কারখানায় গিয়ে। সেখানেও চাইনিজদের কাছে প্রভাবশালীরা উচ্চমূল্যে জমি ভাড়া দিয়ে ব্যাটারি কারাখানার জন্য সুরক্ষা দিচ্ছেন।
রূপগঞ্জের তারাবো মোড়ে একেবারে মূল সড়কের পাশেই গেলো পাঁচ বছর ধরে চলছে আরেকটি কারখানা। পরিচিত লোক ছাড়া বাইরের কেউ সেখানে ঢুকতে পারেন না। সেখানে দিন-রাত তৈরি হচ্ছে ব্যাটারি। কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা দূরে থাক, পরিবেশ অধিদপ্তরের নুন্যতম কোনো ছাড়পত্রও তাদের নেই।
একাত্তর/এসি