নটরডেমে হয়ে গেলো ন্যাশনাল ম্যাচ ফেস্টিভ্যাল

জটিল হিসাব নিকাশ চলছে মাথায়। হাতের কলম লিখে চলেছে খাতায়। অংক মিললেই পুরস্কার। তাই অংক মিলানোর দুরন্ত প্রচেষ্টায় ব্যস্ত সারা দেশ থেকে আগত খুদে গণিতবিদরা। বলছি নটরডেম ম্যাথ ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভালের কথা।

গত ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল নটরডেম কলেজ ক্যাম্পাস মুখরিত হয় এক ঝাঁক গণিত প্রেমীদের পদচারণায়। সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন হয় ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাচ ফেস্টিভাল। এ আয়োজন এর পিছনে নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মন থেকে গণিতের ভীতি দূর করা এবং গণিতের ভালোবাসাকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

Mighty Math to Feel Almighty and His Creation - এই Motto নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ই মার্চ, পাই দিবসে যাত্রা শুরু করে নটরডেম ম্যাথ ক্লাব। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে গৌরবময় ৭ টি বছর। আর এই সাত বছরে ক্লাব সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ আজ এই ক্লাব হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব। বর্তমানে নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১০০০ এর বেশি, এবং অ্যালামনাই রয়েছেন ৪০০০ জনের অধিক। ক্লাবটির সকল কার্যক্রমের মধ্যে প্রধানতম হল প্রতিবছর এত বড় একটি গণিত উৎসব আয়োজন করা। এছাড়াও অন্তকলেজ গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন, বাৎসরিক ম্যাগাজিন, এবং বাৎসরিক দেয়ালিকা প্রকাশও ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভালে সোলো, টিম, সাবমিশন বেসড, এবং স্পেশাল এই চার ধরনের মিলিয়ে মোট সেগমেন্ট ছিল মোট ২৭ টি। এর মধ্যে আবার কিছু সেগমেন্ট ছিল অনলাইন নির্ভর। ম্যাথ ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয় সে সকল সেগমেন্টের প্রতিযোগিতা গুলো। ক্লাবের যাবতীয় কার্যক্রম হিসাব সংরক্ষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিভিন্ন ধরনের লেখা ও প্রশ্ন প্রকাশের জন্য বিশেষায়িত নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের অনন্য ওয়েবসাইট। 

NDC@

ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভ্যালের সেগমেন্টগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এরকম:

১. ম্যাথ অলিম্পিয়াড ২ ধরণের অনুষ্ঠিত হয়। ফাইন্ড বেজড যেখানে শুধুমাত্র বিভিন্ন গণিতের বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর বের করতে কোনো বিশ্লেষিত উত্তর ছাড়া। অপরটি ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রুফ যেখানে প্রতিটা প্রবলেম প্রমাণসহ উত্তর করতে হয়। প্রথমটি দ্রুত সমস্যা সমাধান যাচাই করে এবং পরেরটি সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন উপায় ও চিন্তাশক্তি পরীক্ষা করা হয়। 

২. ম্যাথ ইন মোশন যেখানে গণিতের একটি শাখা গতিবিদ্যা ও বাস্তব জীবনে গণিতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

৩. ক্যালকুলাস মানিয়া তে অন্তরীকরণ এবং যোগজীকরণ এর বিষয়গুলো,লিমিট, অন্তরক এবং যোগজ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে দেওয়া হয়।

৪.কম্বিকোনান্ড্রাম এ কম্বিনেট্রিক্স বিষয়ক যেমন : গণনা পদ্ধতি, কবুতর খোপনীতি, গ্রাফ সম্পর্কিতসহ বিভিন্ন বিষয়ের মিশ্র দক্ষতা যাচাই করা হয়।

৫. এছাড়াও নুমেরালজিয়া নামক আরেকটি ইভেন্ট রয়েছে যেখানে সংখ্যাতত্ত্ব, মৌলিক সংখ্যা সহ বিভিন্ন সংখ্যা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিযোগীদের জ্ঞানের পরিধি যাচাই করা হয়।

৬. ফাংশন গ্রাফিং এ বিভিন্ন ইকুয়েশনের গ্রাফ আকতে দেওয়া হয়। 

৭. জ্যামিতি বিষয়টিতে অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ ও দক্ষতা জানতে জিওমেট্রিক কন্সট্রাকশন এর আয়োজন করা হয়।

৮.ক্রাক দা কোড এ বিভিন্ন ভাষার কোড দেওয়া হয় এবং সেগুলোকে সমাধান করে বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করতে দেওয়া হয়।

৯. হিউমান ক্যালকুলেটর এ কে কত দ্রুত সংখ্যা মনে রেখে নিজের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে হিসাব করতে পারে তা বের করা হয়।

১০. স্পিড ম্যাথ এবং ম্যাথ কাউন্টস এ খুব অল্প সময়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে হয়। যে দ্রুততর সময়ে করে তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

১১. আইকিউ অলিম্পিয়াড এ বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করা হয় বিভিন্ন পাজল এবং রিডলস দিয়ে।

১২. সাধারন সুডোকু এর মতো হলেও এখানে সুডোকু আয়োজন করা হয় অনলাইন এ যেখানে যে দ্রুততর সময়ে মিলাতে পারে সে ই বিজয়ী হয়।

১৩.এছাড়াও স্পিড কিউবিং তেও অংশগ্রহণকারীদের কে সময়ের ভিত্তিতে কিউব সমাধান করতে দেওয়া হয় এবং যে যত দ্রুত সমাধান করে সে-ই বিজয়ী হয়।

১৪. এছাড়াও দলগত ইভেন্ট গুলার মধ্যে স্ক্রাপবুক এবং দেয়ালিকা আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে যথাক্রমে ৩ জন এবং ২ জন করে দলে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৫. এছাড়াও রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন যেখানে বিভিন্ন ক্যাটেগরি কে দেওয়া বিষয়ে তারা প্রেজেন্টেশন বানিয়ে তাদেরকে প্রদর্শন করতে দেওয়া হয়েছে।

১৬. আকর্ষণীয় আরেকটি ইভেন্ট হলো প্রজেক্ট প্রদর্শনী যেখানে তারা মেকানিক্স, গণিত বিষয়ক এবং পরিসংখ্যান এর বিভিন্ন প্রজেক্ট প্রদর্শনী দেখানো হয়।

১৭. সাবমিশন বেজড ইভেন্ট গুলোতে ছিল গণিত বিষয়ক সম্পাদনা, ম্যাথ মিমস ও ম্যাথিনেমা যেখানে তারা গণিত এর যেকোনো একটি বিষয়ের উপরে একটি ভিডিও বানিয়েছিলো।

সবথেকে আকর্ষণীয় একটি ইভেন্ট  ছিল ট্রেজার হান্ট যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মাথার পাশাপাশি শারীরিক শ্রম কে ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করে গুপ্তধনের আশায়।

ফেস্টিভ্যাল চলাকালীন কলেজ ক্যাম্পাস ছেয়ে যায় অসংখ্য ব্যানার এবং পোস্টারে। প্রতিযোগীদের যেন কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য দিকনির্দেশনামূলক ব্যানার এবং সময়সূচী সংবলিত ব্যানার এর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও তাদের দরকারি তথ্য সরবরাহ করার জন্য সার্বক্ষণিক বিভিন্ন ধরনের ঘোষণা চলতে থাকে। এবং তাদেরকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য থাকে দুটি ইনফরমেশন ডেস্ক। 

উৎসবের পুরোটা সময় কলেজ ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের সদস্যরা। প্রায় ২০জন এক্সিকিউটিভ, ৬০জন অর্গানাইজার এবং ৬০জন ভলান্টিয়ার সার্বক্ষণিক মাঠে উপস্থিত থেকেছে যাতে করে প্রতিযোগিদের কোন অসুবিধা না হয়।

ওয়ার্কশপ পরিচালনা করা এবং অভিভাবকদের বসার জন্য তৈরি করা হয় বিশাল প্যান্ডেল, যার আশেপাশে ছিল বিভিন্ন ধরনের স্টল। যেমন: Real Cafe, Igloo, কিশোর আলো, Wellfood, Startech, Maggi প্রভৃতি কোম্পানির বিভিন্ন ধরণের স্টল। 

এই ফেস্টিভাল সফল হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন ধরনের স্পনসর। ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভ্যালের টাইটেল স্পন্সর ছিল বসুন্ধরা গ্রুপ।  কো টাইটেল স্পন্সর ছিল ভূতের আড্ডা। বেক্সিমকো ফার্মা ছিল হাইজিন পার্টনার হিসেবে। এছাড়াও ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো এবং বিজ্ঞান চিন্তা। উৎসবটিকে আরও বেশি প্রচারমুখী করার জন্য প্রিন্টেড মিডিয়া পার্টনার হিসেবে The Daily Star, রেডিও পার্টনার হিসেবে রেডিও ধ্বনি 91.2 FM, TV মিডিয়া পার্টনার হিসেবে News24 এবং একাত্তর টিভি নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের সঙ্গে ছিল। প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য টেক পার্টনার হিসেবে ছিল Startech। প্রতিযোগীদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করার জন্য সাথে ছিল Wellfood, Real Cafe, Maggi, Igloo ও Partex গ্রুপ।

এই প্রতিযোগিতার প্রাণ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছে প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছানো এবং তাদেরকে প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় ক্যাম্পাস এম্বাসেডর। এছাড়াও রাখা হয় ক্লাব পার্টনার। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই আয়োজন এর কথা ছড়িয়ে যায় দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে।

শিক্ষার্থীদের গণিতের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয় কাঠিন্যের মান অনুযায়ী গাণিতিক সমস্যা। এ কাজে অংশগ্রহণ করে নটরডেম ম্যাথ ক্লাব এর একাডেমিক টিম। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের বিভিন্ন বছরের জাতীয় ক্যাম্পার, জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী এবং নটরডেম কলেজের প্রথম সারির ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত হয় একাডেমিক টিম। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র নিরীক্ষণ এবং ফলাফল প্রণয়নের দায়িত্বটাও তাদেরই পালন করতে হয়। গতানুগতিক গাণিতিক সমস্যার থেকে কিছুটা ভিন্নধর্মী হয় এ সকল সমস্যা। তাই এগুলোর সমাধান করতে শিক্ষার্থীদের বেশ মগজের কাজ করতে হয়। এ ধরনের অলিম্পিয়াডের সুবিধা হল শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্নগুলো সম্পর্কে কৌতুহল জাগে, যা তাদের জানার আগ্রহকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের চর্চা বৃদ্ধি পায়। যা ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভ্যাল এবং দেশের সকল গণিত অলিম্পিয়াডের অন্যতম লক্ষ্য। তাদের কৌতূহল এবং গণিতের প্রতি আগ্রহকে আরেক দফা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদপ্রাপ্তদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ কর্মশালা। এছাড়াও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর জন্য ছিল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ওয়াল ম্যাগাজিন এবং স্ক্রাপবুক এর মত আয়োজন। এসব সেগমেন্টের বিচারক হিসেবে ছিলেন নটরডেম কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।

২৭ তারিখ, কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে তৈরিকৃত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ ডক্টর ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সিএসসি এবং নটরডেম কলেজের ছাত্র পরিচালক ফাদার আন্থনি সুশান্ত গোমেজ, সিএসসি। এছাড়াও ছিলেন O’Dell গ্রুপ এর চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর, শাহ মোহাম্মদ মোহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেটিক্স এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ এপ্লাইড ম্যাথমেটিক্স এর চেয়ারম্যান এবং প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ ফেরদৌস, এবং নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের মডারেটর মোঃ আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কৃতি প্রতিযোগীদের হাতে। 
সমাপনী পর্বের অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মনোরঞ্জনের জন্য আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ব্যান্ড পারফরমেন্স।
সম্পুর্ন আয়োজন সম্বন্ধে নটরডেম ম্যাথ ক্লাবের একজন এক্সিকিউটিভ এর বক্তব্য, “পুরো আয়োজনটি সুসম্পন্ন করতে আমরা কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দিনশেষে এই আয়োজনে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উচ্ছ্বাস দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত”। 
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী একজন প্রতিযোগী বলেছে, “ ভালোই লেগেছে। প্রশ্ন গুলো একটু কঠিন ছিল, তবে সমাধান বের করতে বেশ মজা লেগেছে। এরকম আয়োজন যেন আরো বেশি বেশি হয় সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি”। ছেলেকে হাত ধরে নটরডেম প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা একজন অভিভাবক গণিত নিয়ে এ ধরনের আয়োজনের জন্য নটরডেম ম্যাথ ক্লাবকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত একজন ভলান্টিয়ারের বক্তব্য , “এই তিনদিন আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। কিন্তু দিনশেষে সে সব কষ্ট আনন্দে পরিণত হয়েছে যখন আমরা সকলকে একটি সুন্দর আয়োজন উপহার দিতে পেরেছি ”।

দিনশেষে বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের বুকভরা আসার গল্প নিয়ে শেষ হয় ফোর্থ ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভাল। নটরদের ম্যাথ ক্লাব আশা রাখে এ ধরনের আয়োজন এর মধ্য দিয়ে গণিতের ভয়ে দূর করে গণিতকে ভালোবাসার চোখে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তারা ছড়িয়ে দিতে পারছে সকলের মধ্যে। এ ধরনের আয়োজন তাই সারা দেশে আরো বেশি বেশি করে করা হোক। দেশের বুকে তৈরি হোক দেকার্তে, নিউটন কিংবা গাউসের মতো বাঘা বাঘা গণিতবিদ।