বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারেরও বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জন এই রোগে মারা যান। মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা তৈরিতে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর গুলশানে ‘আমরা নারী’ ও ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের’ উদ্যোগে এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের সহায়তায় এই সেমিনার হয়।
এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। এই প্রচেষ্টায় আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ‘জয়ী’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্তন ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজওয়ান দাউদ শামস ও চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার সাঈদ ইকবালসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, আইটি বিশেষজ্ঞ সামিউল ইসলাম হিরণ এবং ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের’ প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে হুমায়রা কানেতা। সেই সঙ্গে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. হুমায়রা উপস্থিতদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি নিরূপণ, প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ ও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে মাসিকের পরে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা এবং ৪০ বছর বয়সের পর থেকে বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫,০০০ এরও বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৭,৫০০ জন এই রোগে মারা যান। অধিকাংশ নারীর মধ্যেই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে অনেকে সংকোচবোধ করেন। ডা. হুমায়রা উপস্থিতদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি নিরূপণ, প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ ও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ
- বগল বা স্তনে গাঁটের উপস্থিতি
- স্তনে ফোলা, ব্যথা বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া
- স্তনের আকার পরিবর্তন বা লালচে ভাব
- স্তনের বোঁটা থেকে রস নির্গত হওয়া
পরামর্শ: ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে মাসিকের পরে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা উচিত। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত।