ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় একশ’ মুরগির খামার আছে। কিন্তু পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগে নোটিশ হয়েছে একজনের বিরুদ্ধে।
কারণ তিনি প্রণোদনার টাকা লোপাটের প্রতিবাদ করেছেন। প্রতিবাদ করলে হামলার শিকারও হতে হয়েছে অনেককে। এভাবেই প্রভাবশালীরা জব্দ করছেন প্রকৃত খামারীদের।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সজিব হাওলাদার ও আবদুল আলিম হাওলাদার তিন বছর আগে বাড়িতে একটি মুরগির খামার গড়ে তোলেন।
বাবা-ছেলের খামার চলেছিলো ঠিক ঠাকই। কিন্তু করোনাকালে উপজেলায় প্রণোদনার টাকা এসেছে এমন খবর জেনে গেলেই বাধে বিপত্তি।
সজিবের পরিবারের অভিযোগ, করোনার প্রণোদনার তালিকায় তাদের নাম ছিল না। কিন্তু একটি মুরগিও নেই, এমন সব ব্যক্তি টাকা পাওয়ায় তারা কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ করলে, প্রতিকারের পরিবর্তে হামলার শিকার হতে হয়।
তবে, লিয়নের পরিবারের দাবি তারা কোনো ধরনের হামলা চালায়নি। উল্টো তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সজিবের পরিবার হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
আর, স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা লিয়নের পরিবার ৭০ বছরের এক বৃদ্ধার শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে সজিবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেই মামলায় এলাকা ছেড়ে, সজিব এখন ঢাকায় উবারে গাড়ি চালায়।
উপজেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার জানান, এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, লিয়নের বেতন সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের হাতে।
এদিকে, এলাকায় একই রকম শ’খানেক মুরগির খামার থাকলেও শুধু সজিবের খামার বন্ধে দুই দফা নোটিশ দিয়েছে বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তর। যা এই অঞ্চলে বিরল। বরিশাল অফিসের কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেলেই তারা শুধু এমন নোটিশ দেন।
এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব: গরু-মুরগির খামার নেই, তবু মিলেছে করোনার প্রণোদনা
একাত্তর/এআর