মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে চার্চ ও ধর্মীয় নেতাদের প্রচার সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই সঙ্কট সমাধানে সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর রমনা আর্চবিশপ হাউসের পালকীয় কেন্দ্রে আয়োজিত এক সভায় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা এসব কথা বলেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের অধীনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ হাউসের হাউস সুপিরিয়র ফাদার আলবার্ট রোজারিও।
তিনি বলেন, সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সমাজে বিশেষ প্রভাব থাকে। তারা সাধারণ মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখান। মানবপাচারের বিরুদ্ধেও তারা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারেন।
হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা বলেন, মানবপাচার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা। মেয়েরা প্রায়ই পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাসেম্বলি ও ক্লাসরুমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেবো। পাশাপাশি গির্জার প্রার্থনার দিনগুলোতেও এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
বিদেশে নার্সিং পেশায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সালেসিয়ান সিস্টার্স হাউসের ইনচার্জ সিস্টার ফ্লোরেন্স মিতা দাস। তিনি বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই নার্সিং পেশায় কাজ করতে বিদেশ যাচ্ছেন। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, বিদেশে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষণের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে প্রতারিত করা হচ্ছে। এটি পাচারের প্রাথমিক ধাপ, যা নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসান। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাগরে প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। সম্মিলিত চেষ্টায় এই সঙ্কটের সমাধান করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার ব্লেইস এন্থনী গমেজ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়লা শারমিন। সভায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন চার্চ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে কাজ করে আসছে।