ইউরোপ যাবার পথে লিবিয়ায় আটক ৮৩ বাংলাদেশির জীবন বাঁচাতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও সমুদ্রে পথে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছিলো এসব বাংলাদেশি। কিন্তু ঘটনাচক্রে ধরা পড়ে এখন সময় কাটছে কারাগারে।
এদিকে খুলতে যাচ্ছে অস্থিতিশীল লিবিয়ার শ্রমবাজার, যা মানবপাচারকে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। তারা জানান, এতে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাবার লাইন আরো দীর্ঘ হতে পারে। তৈরি করবে দ্বিমুখী সমস্যা।
ভাগ্য পরিবর্তন আর উন্নত জীবনের লোভে পরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রাণহানির পাশাপাশি নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বহু বাংলাদেশি।
ইউরোপ যেতে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হচ্ছে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রে পথে গ্রিস বার ইতালির উপকূলে পৌঁছানো। কিন্তু এই ভয়ংকর যাত্রা অনেকের জন্য শুভ হয় না।
কিছুদিন আগেই লাখ টাকা আয়ের আশায় কলকাতা হয়ে একদল পাড়ি জমিয়েছিল লিবিয়ায়। লিবিয়া থেকে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে যেতে চেয়েছিলো ইউরোপ।
কিন্তু, দালাল চক্রের কুটচালে তাদের এখন ঠিকানা লিবিয়ার কারাগারে। যেখানে তাদের কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন। তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে স্বজনরা।
আরও পড়ুন: আবাসিকে গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর চেষ্টা
মাদারিপুরের বাজিতপুরের বাসিন্দা আমিনুল ব্যাপারি দুবাই যান কাজের আশায়। পরে দালালের প্রতারণায় উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমান লিবিয়া।
আমিনুল দুবাই হয়ে এলেও কেউ কলকাতা কেউ নেপাল কেউ বা মুম্বাই হয়ে লিবিয়া পৌঁছান। সেখান থেকে ছোট নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে তাদের ইতালি পৌছার কথা।
লিবিয়া গৃহযুদ্ধের শিকার একটি দেশ। দেশটির বিভিন্ন এলাকা অস্ত্রধারী মিলিশিয়া বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। অস্থিতিশীল এই দেশটিতে কর্মীর চাহিদা আছে এমন অজুহাতে সে দেশে বাজার খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৪ থেকে ২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাবার চেষ্টা করেছে। যার শীর্ষে আছে বাংলাদেশিরা।
লিবিয়া অথবা আফ্রিকার যে কোন দেশই পাচার হওয়া বাংলাদেশিরা যখন দেশে ফেরেন, তখন হয় টাকা দিয়ে আপোস হয় দালালের সাথে। অন্যথায় করা হয় দালালের বিরুদ্ধে মামলা।
