বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘পারুল ইউনিভার্সিটি’তে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্পট অ্যাডমিশন (সরাসরি ভর্তি) এবং আকর্ষণীয় শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ঢাকায় একটি বিশেষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ক্যারিয়ার গাইডলাইন কনসাল্টেন্সির সহযোগিতায় ‘পিইউ-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ অ্যাডভান্সমেন্ট ডায়ালগ ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় এডুকেশন কনসাল্টেন্সি ফার্মগুলোর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতের মাটিতে বিশ্বমানের ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারুল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. দেবাংশু প্যাটেল। তিনি জানান, বর্তমানে ৫০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পারুল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি ও বিশেষ শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ তৈরি করতে তারা কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, ভারতের গুজরাটে অবস্থিত পারুল ইউনিভার্সিটি দেশটির ‘ন্যাক’ কর্তৃক সর্বোচ্চ ‘এ++’ গ্রেডপ্রাপ্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গুজরাট সরকার কর্তৃক 'সেন্টার অব এক্সেলেন্স' হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া এটি কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬-এ (১০০১-১১০০ ব্যান্ড) স্থান পেয়েছে এবং এনআইআরএফ ২০২৫-এর তালিকায় উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে ভারতের শীর্ষ ৫০টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫০টিরও বেশি একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু রয়েছে, যেখানে বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের সাড়ে ৬ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ ৭০ হাজার ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
ক্যারিয়ার গাইডলাইন কনসাল্টেন্সির সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রথম বছরে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠানোর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও, পরবর্তী বছরে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৭ জনে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, আবাসনসহ সব ধরনের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা এখানে বিদ্যমান রয়েছে।
পারুল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জোতি বিশ্বাস নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, সেখানের দুই বছর আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে পড়াশোনা ও মেলামেশার সুযোগ আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। পড়াশোনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্লেসমেন্ট এবং দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।
সংলাপ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পারুল ইউনিভার্সিটির এই বিশেষ ভর্তি ও স্কলারশিপের উদ্যোগ আগামী শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলবে।