দেশের প্রতিটি প্রান্তে করোনা ছড়িয়েছে গত বছরের সাধারণ ছুটিতে। দেশি–বিদেশি সাতটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে।
কারণ হিসেবে ওই সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢাকা থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়াকেই উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণাগুলোতে।
গবেষক দলের সদস্য আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, চলমান এই গবেষণা ভবিষ্যতে সংক্রমণ ঠেকাতেও কাজে আসবে।
চীনের উহানে করোনা সংক্রমের তিনমাস পর গেলো বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার শনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে সরকার।
এরপরই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। দফায় দফায় সাধারণ ছুটি, কঠোর বিধিনিষেধ, সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্য দিয়ে যায় দেশ।
সংক্রমণ ঠোকতে সেই সাধারণ ছুটিই নাকি বুমেরাং হয়েছে দেশের জন্য। ওই সময় ঢাকা ছেড়ে দলে দলে মানুষের গ্রামে যাওয়াই ছিলো দেশজুড়ে করোনা ছড়ানোর প্রাথমিক কারণ।
আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, আইদেশি, এটুআই প্রোগ্রাম, হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথসহ প্রায় সাতটি প্রতিষ্ঠানের গবেষনায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি মাসের চার তারিখ বিজ্ঞান সাময়িকি নেচারে প্রকাশিত ওই গবেষনারপত্রের বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য ডা. তাহমিনা শিরিন জানান, প্রথম আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৯১টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্যের সাথে বিভিন্ন মোবাইল সেবা সংস্থার তথ্য মিলিয়ে করোনা ছড়ানোর এই প্রাথমিক করাণ জানা গেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের বাড়ছে পর্যটকের ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি উধাও
গবেষনায় দেখা গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন কতোদিনের মধ্যে কিভাবে ছড়িয়েছে।
যার কারণে মহামারী নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়েছে বলেও মনে করেন এই গবেষক।
পাশাপাশি চলমান এই গবেষনার ফল আগামীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরো সহায়ক হবে বলেও মনে করছেন এই গবেষক।