বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট রেজিস্ট্রারী মাঠে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, প্রয়োজনে একাত্তর সালে যেভাবে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবব্ধ হয়ে পাক হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশবাসী, ঠিক সেইভাবে যুদ্ধ করে বর্তমান অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ কোনো একজন ব্যক্তি বা দল করেনি। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। কিন্তু শহিদ জিয়াউর রহমান ও আতাউল গনি ওসমানীসহ অনেক বীরদের অবদান স্বীকার করে না আওয়ামী লীগ। ১৬ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে যে সুবর্ণজয়ন্তী উদযান করা হয়েছে সেখানে শেখ মুজিব ছাড়া আর কারো নাম নেওয়া হয়নি। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট শত্রুমুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কিন্তু জোর করে ক্ষমতায় থাকা এ সরকার প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিয়ে একটি ভ্রান্ত গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চায়।
আরও পড়ুন: সূর্যের আবহমণ্ডলে প্রবেশ করলো প্রথম মহাকাশযান
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য বাসযোগ্য একটি ভূমি রেখে যেতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের স্বপ্ন ছিলো একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। এ দেশে দারিদ্র্য মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গুটিকয়েক মানুষ সরকারের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।
দেশে আজ গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বার বার নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে কারাবাস করিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন মুমূর্ষু অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খোন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
একাত্তর/আরবিএস