রাজপথে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকেও পাশে পাচ্ছে বিএনপি

ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জোট। নতুন করে এই জোটে যোগ দিয়েছে বাম ধারার দল- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এই নিয়ে চারটি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিলো। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই জোটে আরও রাজনৈতিক দল যুক্ত হবে। 

নাগরিক ঐক্য, লেবার পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনের পর বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলনে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি। 

বুধবার (১ জুন) দল দুটির নেতাদের মধ্যে সংলাপের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

ওই সংলাপে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে ঐকমত্যে পৌঁছে দুই দল। পরে দল দুটোর শীর্ষ নেতারা জানান, আন্দোলন যুগপৎ হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ধারা নির্ধারিত হবে যে শেষ পর্যন্ত সেটা কিভাবে রূপ নিচ্ছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল বলেন, সরকার পরিবর্তনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে বিএনপির কাছে ৩১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে তাদের দল। 

তিনি বলেন, গত ২০১৪ এবং ১৮ সালের মতো আরেকটা ব্যর্থ নির্বাচনের দায় বাংলাদেশের মানুষ ও জনগণ গ্রহণ করতে পারবে না। আমরা একমত হয়েছি, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি যে পর্যায়ে- সেখানে দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার সুযোগ নেই। 

তিনি আরও বলেন, তাই নির্বাচনের আগেই বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন সময় নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এসব বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি। গতানুগতিক একটা বিশেষ সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে আরেকটা গতানুগতিক সরকার গঠনের জন্য এ আন্দোলন নয় বলেও জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক।

সাইফুল হক বলেন, মানুষ দেখতে চায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আছে। মানুষ দেখতে চায় এই দুঃশাসন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোকে জনগণের পক্ষে একটা কার্যকর-সমন্বিতভাবে যুগপৎ ধারায় মাঠে আছে। 

সরকার পরিবর্তনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে, বুধবার বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপ শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত এখন আমরা যারা একমত হচ্ছি তারা আমরা যৌথভাবেই আন্দোলন শুরু করব এবং যার যার জায়গা থেকে আন্দোলন শুরু করব। 

সরকারবিরোধী আন্দোলন যুগপৎ হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ধারা নির্ধারিত হবে যে শেষ পর্যন্ত সেটা কিভাবে রূপ নিচ্ছে বলে যোগ করেন ফখরুল। 

তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে কাজ করলে অবশ্যই এই দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগণের বিজয় অর্জনে সক্ষম হব। 

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে আমরা পদত্যাগে বাধ্য করবো। এখানে এটা সবেচেয়ে বড় বিষয়। এবিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর পদত্যাগে বাধ্য করার পরে এ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে- এ ব্যাপারেও আমরা একমত হয়েছি। 

এরপরে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে একটা নতুন ভোটের বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি।

বিএনপির মহাসচিব জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিজ নিজ দলের নীতি আদর্শ ঠিক রেখেই তারা জোটবদ্ধ আন্দোলনে শরীক হবেন এবং যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন। 

বিএনপির পক্ষে সংলাপে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষে সাইফুল হকের সঙ্গে আকবর খান, বহ্নিশিখা জামালী, আনসার আলী দুলাল, আবু হাসান টিপু, মীর মোশাররফ হোসেন মোস্তাকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/এআর