আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আগামী নির্বাচনে জয়ী হবার প্রত্যয়

মাদারীপুরের শিবচরের জনসভায় যোগ দিয়েছে লাখো মানুষ। বাসে লঞ্চে ট্রলারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ যোগ দেন সমাবেশে। এ উপলক্ষে পদ্মা পাড়ে ছিলো উৎসব পরিবেশ। 

সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ বিরোধীতাকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তাই আন্দোলন বা সরকার পতনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আগামী নির্বাচনেও বিজয় নিশ্চিত করে সরকার গঠন করবে আওয়ামী লীগ। 

শনিবার সকাল থেকে প্রমত্তা পদ্মার বুকে যেন উৎসবের আমেজ। শত শত লঞ্চ স্টিমার ট্রলার স্পিডবোটে করে এসেছে মানুষ। নদীর বুকে এ যেন উৎসবমুখর মানুষের নৌ মহড়া। 

কেবল সকালে নয়। আগের রাতেই লঞ্চ স্টিমার বোঝাই নেতা কর্মীরা এসেছেন পদ্মার শিবচর প্রান্তে। রাত থেকেই তারা ছিলেন সমাবেশের অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায়।   

সড়ক পথে শত শত বাস-ট্রাকসহ নানা বাহনে চড়ে মানুষ এসেছে দক্ষিণ পশ্চিমসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। তাদের আগমনে মহাসড়কে তৈরি হয় যানের দীর্ঘ সারি। 

একে তো পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণ। তার ওপর করোনা মহামারী পেরিয়ে প্রায় আড়াই বছর পর আওয়ামী লীগের প্রথম কোন জনসমাবেশ। 

তাই সব মিলে নেতা-কর্মীদের উৎসাহ আর উদ্দীপনার কোন কমতি ছিলো না। সমাবেশ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। দশ লাখেরও বেশি মানুষের সমাবেশ ঘটে কাঁঠালবাড়ীর সমাবেশে। 

জনসভায় দেয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশ বিদেশের সব ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিলেন শেখ হাসিনা। 

আরও পড়ুন: আবারও করোনায় আক্রান্ত মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সবার মুখে আনন্দের হাসি। আর বিএনপির মুখে শ্রাবণের আকাশের মেঘ। 

তিনি বলেন, এত ষড়যন্ত্র, এত কূটচাল, তারপরও শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করে ফেললেন। মির্জা ফখরুলের মন খারাপ, বুকে বড় ব্যথা, বড় বিষের জ্বালা। জ্বালায়-জ্বালায় মরছে তারা।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নাম জনগণের হৃদয়ে চিরদিন গেঁথে থাকবে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার ডাকে সাড়া দিয়ে পদ্মাপাড়ের অনেক মানুষ তাদের বাপ-দাদার বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন- তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। 

এছাড়া ক্ষমতাসীন দলটির অন্যান্য নেতারা বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই ভবিষ্যতের শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তাঁরা বলেন শেখ হাসিনাই পারেন। 

আর বিএনপি পারে লুটপাট। তারা বলেন, দেশকে পিছিয়ে দেয়ার চক্রান্ত তা যে কোন মূল্যে রুখে দিবে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ী হবে আওয়ামী লীগ। 

দুপুর দুইটার আগেই মাদারিপুরে আওয়ামী লীগের সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও, পদ্মা পাড়ে উৎসব মুখর মানুষের সমাবেশের বিকেলেও শেষ হয়নি। 


একাত্তর/এসি