দেশের মানুষ বেহেশতে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বক্তব্যর পরদিনই ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর দলের নেতাকর্মীদের সংযত হয়ে কথা বলার আহবান জানিয়েছিলেন।
সেই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় থামতে না থামতেই আবারো পররাষ্ট্রমন্ত্রীরর এক বক্তব্যকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এবার তিনি বলেছেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এনিয়ে এখন উত্তপ্ত বসার ঘর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন।
এনিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। আওয়ামী লীগ, ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকা ও আসার জন্য ভারতকে কখনো অনুরোধ করেনি।
শুক্রবার রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এটি কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। এটা দল বা সরকারের বক্তব্য নয়। বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার উৎস।
তিনি আরও বলেন, ভারতে সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো বৈরি সম্পর্ক চায় না। ভারতের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে বহুদিনের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। কয়েকটি সমস্যার অগ্রগতি আসবে। সেপ্টেম্বরে আরও বিষয়ে সমাধান হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের মাইনরিটি (সংখ্যালঘু) ভাববেন না। সমান অধিকার আছে আপনাদের। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মুখে মায়াকান্না মানায় না। আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা হয়নি। ইদানিং যারা মন্দিরে হামলা করে, তারা দলের নয় দুর্বৃত্ত। তারা সবার শত্রু। এদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
একাত্তর/এসএ