আইএমএফ’র শর্ত অনুযায়ী সরকারকে বাজেট দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার আমীর খসরু তার বনানীর বাসায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু বলেন, এটি সরকার না আইএমএফ’র বাজেট- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট সরকার দিচ্ছে নাকি আইএমএফ দিচ্ছে তা দেখতে হবে। আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী তাদের বাজেট দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংক ও বাহ্যিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ায় গত সাত বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৫২%। এই ঋণ শোধ করতে হবে নতুন প্রজন্মকে।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে জনগণের টাকা লুটপাট ও পাচারের জন্য স্মার্ট বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, এটি অবশ্যই একটি স্মার্ট বাজেট। এ বাজেটের সুবিধা নিয়ে বর্তমানের চেয়ে স্মার্টভাবে ব্যাংক ও জনগণের টাকা আর কেউ লুট করতে পারবে না।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন বাজেট সরকারকে জনগণের টাকা লুটপাটের বিভিন্ন সিন্ডিকেট চালাতেও সহায়তা করবে। সুতরাং নিঃসন্দেহে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি খুব স্মার্ট বাজেট।
দেশের মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে সরকারের এই স্মার্ট বাজেটের জবাব দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, সরকার পৃষ্ঠপোষক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের নীতি নিয়ে জনগণের অর্থ লুট করার জন্য একটি অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেছে। এই অর্থনৈতিক মডেলের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মানে যারা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য বা সরকারের পৃষ্ঠপোষক; তারা এই বাজেট থেকে উপকৃত হবেন, সাধারণ মানুষ নয়।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হলে সরকার সমর্থিত মহল আরও ধনী হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও দরিদ্র হবে।
এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, সরকার ক্ষমতাসীন দলের মদদপুষ্ট লুণ্ঠনকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপির আমলে স্থিতিশীল অবস্থানে থাকা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে। তাই মানুষ দরিদ্র হচ্ছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান হারাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যখন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে, তখন সরকার করের জাল বাড়িয়ে তাদের ওপর নতুন করে বোঝা চাপিয়েছে। যারা দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে ধনী হচ্ছেন তারা কর দেন না, কারণ তারা অবৈধভাবে তাদের অর্থ বিদেশে পাচার করে ও দেশে ডলার সংকট তৈরি করে। আর ডলারের ঘাটতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।
এই বাজেট মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে সাহায্য করবে না, কারণ লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে গেলে সরকারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, টাকার মান বাড়াতে হবে ডলারের বিপরীতে। লুটপাট বন্ধ করতে হবে। না হলে মূল্যস্ফীতি কমানো যাবেনা। জিনিসপত্রের দাম কমানো সম্ভব হবেনা।
সাংবাদিকদের বাজেট প্রতিক্রিয়া দেয়ার সময় তার বনানীর বাসার ভেতর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমির খসরু।
তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেও সাবধান হতে হবে। কেননা বাসায় পর্যন্ত গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা ভিড় করছে। যে সরকার বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া শুনতে চায় না, তাদের বাজেট কেমন হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট: ওবায়দুল কাদের
খসরু বলেন, বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি উদ্ধারে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক সমাধান মানে বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠা করা। বাজেট জনগণের চিন্তার প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন। একটি অবৈধ দখলদার সরকার ক্ষমতায় থাকায় জনগণের রাজনৈতিক চিন্তা বাজেটে প্রতিফলিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একাত্তর/জো