দ্বাদশ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হতে পারে আওয়ামী লীগই। খোদ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই দিচ্ছেন এই তথ্য। তারা আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজনই এর মূল কারণ। জেলা আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাল সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এদিকে, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে আসা না আসার দোলাচলে থাকলেও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পঞ্চগড়-২ আসনটি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা ও বোদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। পঞ্চগড়-২ নির্বাচনী এলাকা ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়, যখন বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে বিভক্ত করে তিনটি (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলায় ভাগ করা হয়েছিল।
এই আসনের নির্বাচনী চালচিত্রের খবর জানতে এই প্রতিবেদক কথা বলেছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন জেষ্ঠ নেতা অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে। তাঁন কথার মধ্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ এই প্রতিবেদকের কাছে উগড়েও দিলেন।
জেলার সিনিয়র নেতাদের এমন ক্ষোভের কারণ কি শুধুই রাজনৈতিক? তাদের অভিযোগ সদ্য জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে মন্ত্রীর পরিবারের ১৩ জন সদস্যের স্থান পেয়েছে। আর এসবই এখন জেলার আওয়ামী লীগকে বিভাজিত করেছে। যা আগামী নির্বাচনে নৌকার উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারাই।
আর এটিকেই নিজেদের শক্তি হিসেবে দেখছে বিএনপি। নির্বাচনে মাঠে থাকা না থাকা নিয়ে সংশয় থাকলেও ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে বিএনপি। দলটির প্রার্থী হতে আগ্রহীরা কখনও নীরবে কখনও সরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়-১: আওয়ামী লীগে বিভক্তি, বিএনপি আছে দূরত্বে
দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগ জিতেছে পাঁচ বার আর বিএনপি জিতেছে তিনবার। অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দুইবার এবং জাতীয় পার্টির দখলে গেছে একবার।
একাত্তর/এসি