বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী লীগ-জামায়াত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে। 

জামায়েতের সাবেক নায়েবে আমির রাজাকার সাঈদীর মৃত্যুতে মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে গায়েবানা জানাজা করার দাবি তুলেছিলো জামায়াতে ইসলামী।

ঢাকা মহানগর পুলিশ অনুমতি না দিলেও দুপুরে তারা মসজিদের বাইরে জড়ো হতে থাকে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে তাণ্ডব চালিয়ে শোক দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। জাতীয় মসজিদে শোক দিবস উপলক্ষ্যে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। 

নামাজের পর শোক দিবসের মিলাদের ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে উপস্থিত জামাত শিবিরের কর্মীরা প্রতিবাদ শুরু করে। 

এক পর্যায়ে তারা বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমামের উপর চড়াও হয়। এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায় আওয়ামী লীগ নেতারা। এরপরই মসজিদের ভেতর ও বাইরে বিক্ষোভ করে জামাত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বায়তুল মোকাররম এলাকার আশেপাশে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ- কমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতরে শোক দিবসের অনুষ্ঠান পালনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ এলে তারা ভেতরে চলে যায়। তখন ভেতরে থাকা শোক দিবস পালনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।’

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। পুলিশ মসজিদের ভেতরে ঢোকেনি বলেও জানান হায়াতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। যাচাই বাছাই করে তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা সাঈদী সোমবার রাতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান।

তার মরদেহ হস্তান্তরকে কেন্দ্র করেও জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এলাকায় তাণ্ডব চালায়।

জামায়াতকে যে ঢাকায় গায়েবানা জানাজা করার অনুমতি দেওয়া হবে না, তা সকালেই জানিয়ে দেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার খন্দকার ফারুক আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধের ‘দেইল্লা রাজাকার’ হিসেবে পরিচিত সাঈদী একসময় ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতের মনোনয়নে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধী সাঈদী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ২০১৪ সালে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।


একাত্তর/কেএসএইচ