সেলফি নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য অমার্জিত: ওবায়দুল কাদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সেলফি নিয়ে ‘কটাক্ষ’ করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তোলা সেলফি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা শুভবোধ সম্পন্ন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।’

শনিবার নয়দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মেয়ে সায়ম ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে সেলিপি তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

রোববার এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, নয়াদিল্লির একটি সেলফি দেখে বিএনপি নেতাদের চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে এবং তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এখন কাকে দেখাবে, কে নিষেধাজ্ঞা দেবে, কে ভিসানীতি দেবে?

একইদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ওবায়দুল কাদেরকে ওই সেলফি ‘গলায় ঝুলিয়ে’ রাখতে বলেন। ফখরুল বলেন, সেলফির জন্য কিন্তু র‍্যাবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কিংবা ভিসানীতি উঠে যায়নি।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যকে ‘শিষ্টাচারবিহীন ও অমার্জিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি দেশের আপামর জনগণকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত ও গর্বিত করেছে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তোলা সেলফি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা শুভবোধ সম্পন্ন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।

বিবৃতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের তোলা সেলফি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা আনবে এমনটা নয়, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমান সরকারের কোনো বন্ধু নেই বলে বিএনপি নেতারা এতো দিন ধরে যে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে, তার যথার্থ জবাব এই সেলফিতেই প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই নয়, অন্যান্য বিশ্বনেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উষ্ণ মনোভাব নিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন যার ছবি ও সংবাদ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেশপ্রেমিক কোনো ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক সংগঠন দেশকে বন্ধুহীন করার আকাঙ্ক্ষা লালন-পালন করতে পারে না। কিন্তু বিএনপি এই হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

কাদের অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি নেতৃবৃন্দ লাগাতারভাবে তাদের বিদেশি প্রভুদের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছে। একইসাথে তারা বিদেশি প্রতিনিধি এবং সংস্থাসমূহের নিকট বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাদের সরবরাহকৃত বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে বিএনপি পুলকিত বোধ করে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চক্রান্ত করে। আবার যখন সত্য উন্মোচিত হয় তখন তারা নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনে।’

ভিসানীতি নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদেরে বলেন, ‘আলমগীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে কথা বলেছেন! এই ভিসানীতিকে সরকারের পক্ষ থেকেও সাধুবাদ জানানো হয়েছে। ভিসানীতি নিয়ে সরকার কখনো কোনো অস্বস্তিতে ছিল না। বরং ভিসানীতির কারণে তথাকথিত আন্দোলনের নামে বিএনপির আগুনসন্ত্রাস এবং ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতির উপর একটি বিধি-নিষেধ আরোপিত হয়েছে।’