বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়ে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা করা হচ্ছে।
ধানমন্ডির বাসা থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সকালে তাকে আদালতে তোলা হয়েছে।
এ্যানির গ্রেপ্তার নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলে ফখরুল। তিনি বলেন, মধ্যরাতে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে তার বাসার দরজা ভেঙে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ভয়াবহ ও আশংকাজনক।
‘নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হয়নি, তার আগেই বিএনপির যোগ্য নেতাদের গ্রেফতার করে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা করার কাজ শুরু করেছে সরকার,’ বলেন ফখরুল।
তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে আটক নেতাদের জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না, জেলগেটে আবারও গ্রেফতার করা হচ্ছে।‘
সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, তার স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্যের পর বিএনপি ও সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন।
‘দণ্ড স্থগিত, নির্বাহী আদেশে মুক্তির নানা বিষয় তুলে ধরে সরকার খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অমানবিক বাধা দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে – মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বের করার পর এখন উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
খালেদা জিয়া চিকিৎসার প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে সরকার গণরোষের শিকার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, সামনে নির্বাচন আছে। খালেদা জিয়া যেন বাইরে গিয়ে, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে কথা বলতে না পারে, সেজন্য সরকার ভয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে না।
আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এবং জনগণের রুদ্ররোষের শিকার হয়ে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এখন কোনো ভাবনা নেই। মূল উদ্দেশ্য সরকারকে সরে যেতে হবে। সরকার দেশকে পুরো সাংঘর্ষিক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে।
‘তাদের মূল লক্ষ্য, সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি করে অতীতের মতো একতরফা নির্বাচন করা। তবে এবার সেটা হবে না। এদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।’
সংলাপের বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সংলাপের পথ বন্ধ করেছে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ বক্তব্য মিথ্যা, ভুল। বিএনপি বারবার বলে আসছে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করলে বিএনপি প্রস্তুত। তার আগে সরকারকে মেনে নিতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে।‘