বিএনপি নেতারা অনশনে, কর্মীরা ব্যস্ত খাওয়া-দাওয়ায়

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিএনপির অনশনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে খাওয়া-দাওয়া। একদিকে নেতারা দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অনশন করছেন, অন্যদিকে কর্মীরা আশপাশের গলিতে খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা মাস্তিতে ব্যস্ত।

অনশন নয় যেন, খাওয়া-দাওয়ার উৎসব চলছে। অনশন আর খাওয়া-দাওয়ার দৃশ্য শনিবার অনশন চলাকালে সরেজমিনে দেখা যায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবিতে শনিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হয়ে অনশন চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এই অনশন কর্মসূচি আহবান করা হয়।

সরেজমিনে অনশনস্থল ঘরে দেখা যায়, নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, রহুল কবীর রিজভী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, জয়নুল আবেদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, শাহজাদা মিয়া, আবদুল হালিম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

bnp1

খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মঞ্চের সামনের সড়কে মাদুর বিছিয়ে বসেছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু মঞ্চের সামনে যতো না নেতাকর্মী অনশন করছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি নেতাকর্মী বিএনপির নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের আশপাশের গলিতে চা-নাস্তা আর আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন।

এমন দৃশ্যে অনেককেই বলতে শোনা গেছে, হ্যাঁ, এরা করবে আন্দোলন! তিন ঘণ্টার অনশনে আইসা শুধু খাই খাই করছে। নেত্রীর জন্য তিন ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে পারলো না।

মহানগর উত্তর বিএনপির কর্মী সাগর বলেন, দেখেন- এই তিন ঘণ্টার অনশনে কোনে কিছুই হবে না। আমি এসেছি কর্মসূচিতে আসতে হবে এ জন্য। এসব আন্দোলন দিয়ে নেত্রীকেও মুক্ত করা যাবে না, আর সরকারেরও পতন ঘটবে না।

মহানগর উত্তর বিএনপির আরেক কর্মী মোহাম্মদ আজমল হোসেন বলেন, নেতাদেরই যেখানে ঠিক নাই, সেখানে কর্মীদের দোষ দিয়ে লাভ কী?

bnp2

অনশন কর্মসূচীতে যোগ দিতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আসা বিএনপি দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনশনস্থলেই ছিলাম। ভাবলাম একটু চা-পানি খাই, তাই গলিতে ঢুকে খাচ্ছি।

বিএনপির অনশন কর্মসূচি ঘিরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়া পল্টনের সড়কের এক পাশের যান চালাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এই গণ অনশনে আসতে থাকেন এবং কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তার এক পাশের সড়কে বসে পড়েন। এতে আশপাশের সড়কে যানজট তৈরি হয়।