রাজধানীর নয়াপল্টন, কাকরাইল ও নাইটিঙ্গেল মোড়ে দফায় দফায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের ৪১ সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২২ জন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে এবং ১৯ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানান ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন।
তিনি জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এতে আহত ৪১ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া ঢামেক হাসপাতালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২৬ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।
ঢামেক সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। বর্তমানের ভর্তি আছেন ৩৩ জন। তবে তাদের মধ্যে কত জন পুলিশ, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ তা জানা যায়নি। কিন্তু মাথায় আঘাত পাওয়া এক পুলিশ সদস্যর অবস্থা গুরুতর। তিনি ৪৮ ঘণ্টার অবজারভেশনে রয়েছেন।
এদিকে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঢামেকে আসা আহতরা হলেন- নাসির (২৫), সুজন (২০), নওয়াব আলী (৬০), জাফর (৩০), কালাম (৫৫), আলামিন প্রধান (২৫), রাফিন (২২), মারুফ (৪৬), এবিএম রাজু (৪৫), হুমায়ুন কবির (৩৫), লিয়ন (২২), আকলিমা (৩৫), সজীব হোসেন (২৬), সালেক (৩০), সজীব ভূঁইয়া (৩০), সাংবাদিক রাফসান (৩০), সাংবাদিক মাসুম (৩২), বিল্লাল (২৫), রুবেল (২৫), কালাম (৩৮), নান্নু (৩৫), আকরাম (২০), মানিক (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৩০), রাজু আহামেদ (৩৫), কবির (২৫), নয়ন (২৬), এমদাদুল (২৭), আনোয়ার (৪০), জমির (৩৪), হিয়া (২০), রাসেল (১৮), রোকসানা (৪২), রোমান (২৮), আরিন (৫২), এএসআই সামাদ, নায়েক আব্দুর রাজ্জাক, কনেস্টেবল আসাদুজ্জামান, কাইয়ুম ও আলী ।
রাজধানীতে সহিংসতার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়েছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ২১ জন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছে। এসময় তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন।
দৈনিক ইত্তেফাক
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট শেখ নাসির।
একুশে টেলিভিশন
রাজারবাগ এলাকায় একুশে টেলিভিশনের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করে জামায়াত-বিএনপির কর্মী। এসময় আহত হন একুশে টিভির সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপারসন আরিফুর রহমান।
ভোরের কাগজ
নটরডেম কলেজের সামনে বিএনপি'র কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছেন ভোরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ আনিস। তিনি জানিয়েছেন, তাকে মারধর করে ক্যামেরা নিয়ে গেছে যুবদল ও জামায়াত কর্মীরা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পোস্টার ফেস্টুনে রাস্তার মাঝে আগুন দেওয়ার ছবি তুলতে গেলে তারা হামলা চালায়।
সময় টেলিভিশন
নয়াপল্টন সংলগ্ন নাইটেঙ্গেল মোড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে আহত হয়েছেন সময় টিভির সাংবাদিক মারুফ।
কালবেলা
হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক রাফসান জানি। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেগুনবাগিচার দিকে দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে রাফসান রাস্তায় পড়ে যান। এসময় তার মাথা ও সারা শরীরে বেদমভাবে আঘাত করা হয়। পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান।
এছাড়া কালবেলার সাংবাদিক আবু সালেহ মুসা, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক আহত হয়েছেন।
ইনকিলাব
দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক এস এম মাসুম আহত হয়েছে।
গ্রিন টিভি
গ্রিন টিভির বিশেষ প্রতিনিধি রুদ্র সাইফুল্লাহ ও ক্যামেরা পার্সন আরজু বিএনপির হামলায় আহত হয়েছেন।
ঢাকা টাইমস
ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার সালেকিন তারিন হামলার শিকার হয়েছেন।
শেয়ার বিজ
শেয়ার বিজের সাংবাদিক হামিদুর রহমান পুলিশের টিয়ারশেলে আহত হয়েছেন।
নিউ এজ
হামলায় আহত হয়েছেন নিউ এইজের আহাম্মদ ফয়েজ।
বাংলা ট্রিবিউন
বাংলা ট্রিবিউনের সালমান তারেক শাকিল, ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন এবং জোবায়ের আহমেদ আহত হয়েছেন।
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার হয়েছেন।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি হামলার শিকার হয়েছেন।
যমুনা টেলিভিশন
নাইটেংগেল মোড়ে ভাঙচুর করা হয় যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি।
মানবকণ্ঠ
এছাড়া রাজারবাগে মানবকণ্ঠের মনির জারিফের প্রেস লেখা সম্বলিত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ অবস্থা
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক জানান, বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ থেকে ১৩০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ মারা গেছেন। আরও এক পুলিশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি ৪৮ ঘণ্টা অবজারভেশনে আছেন।
তাছাড়া বর্তমানে ৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।
অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধান বিচারপতির বাসভবন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ চলাকালীন সেখানে যোগ দিতে আসা আসা নেতা-কর্মীদের বহনকারী বাস ও পিকআপে বেলা ১২টার দিকে হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় মারমুখী বিএনপির কর্মীরা একজনকে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে বাসটি ভেঙে ফেলে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দিতে গেলে তা ভেঙে ফেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। বিএনপি নেতা-কর্মীরা ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিবি) ভবনে ঢুকে পড়ে। সেখানে রাখা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। কাকরাইল মোড়ের ট্র্যাফিক পুলিশ বক্স আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
কাকরাইলে সংঘর্ষের মধ্যেই সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছিলো বিএনপি। কয়েকটি ট্রাকের ওপর মঞ্চ বানিয়ে বিএনপির নেতারা বক্তব্য শুরু করেন। সংঘর্ষে জড়ানোর পর বেলা তিনটার দিকে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।