বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে ছাত্রদলের এক নেতা কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ঘটনার ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঝে আছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিএনপি আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলো তারা ১০ লাখ লোক সমাবেশে আনবে। তাদের (বিএনপি) সমাবেশ প্রধান বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। ঘটনার সূত্রপাত সেখানে। আওয়ামী লীগের একটি মিছিল যাচ্ছিলো, সেই মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আক্রমণ করে। শুধু আক্রমণ করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা দুটি পিকআপে আগুন দেয়। এরপর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ঢুকে পড়ে। এ সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী তার কাজ করেছে। তাদের সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষণে ক্ষণে বিএনপি ঢিল মারছিলো এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সমাবেশে তারা সবাই লাঠি এনেছিলো। ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটে তিনটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ অনেক ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। এ পর্যন্ত রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগুন লাগিয়ে দেয়। তারা অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের ছোট-বড় স্থাপনায় আগুন দেয়। এ ছাড়া কয়েকটি সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। জাজেজ কম্পেক্সেও আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।
মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই দেখেছেন একজন পুলিশ সদস্যকে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ সদস্য পড়ে যাওয়ার পরেও একজন ছাত্রদল নেতা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে তার মাথা ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। তার ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। সেই পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। এ দৃশ্য সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়েছে। বিএনপি ২০১৪ সালে তারা যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি করেছিলো, সেই পরিস্থিতি আবারও করার পাঁয়তারা করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল (রোববার) বিএনপি হরতাল ডেকেছে। তারা গাড়ি-বাস পুড়িয়েছে। যেই গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করবে, গাড়ি ভাঙচুর করবে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল।
সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অকারণে সীমানা পার হয়ে বিএনপি প্রধান বিচারপতি বাসায় হামলা চালায়, পুলিশ থামাতে এলে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়েছে, ককটেল মেরেছে, এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে।’
‘এগুলো সভ্য মানুষের কাজ নয়। পুলিশের ২৬ টি গাড়ি পুড়িয়েছে। পুলিশ হাসপাতালে এসে হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তারা সেটা মানেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হরতাল সাধারণ মানুষ সমর্থন করে না। অনেক কিছুই করার চেষ্টা করছে। এরা এগুলোই করবে, তারা জনবিচ্ছিন্ন, তাদের কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না।