বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বৃহস্পতিবার

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির ডাকা হরতাল বৃহস্পতিবার। গত সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ওইদিন বুধবার অবরোধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের ডাক দেন তিনি।

হরতালের আগের দিন বুধবার রাতে রাজধানীতে অন্তত একটি বাসে আগুন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ‘জীবন বাজি’ রেখে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

বুধবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ডাক দেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে চলছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে মাতম আর মর্সিয়া। কান্না-আহজারির প্রতিদিনের ঘটনার বর্ণনা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা এক কঠিন সময় পার করছে। অনেকটা দেশ ছাড়া উদ্বাস্তুর মতো, সহায় সম্বলহীন নিঃস্ব তারা।

তার অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীদের যেন মানবাধিকার থাকতে নেই। সংবিধানে যতটুকু মানবাধিকার আছে সেই অধিকার প্রয়োগেরও অধিকার নেই তাদের। হত্যা, লুণ্ঠন ও বন্দি হওয়াই যেন তাদের ভাগ্যের লিখন।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এক দফা আন্দোলনে থাকা বিএনপি ২৯ অক্টোবর থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচি পালন করে আসছে।

এ দফায় তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো দেশজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।

রিজভীর দাবি, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ৩৬৫ জনের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং ১৪টি মামলায় এক হাজার ৫৩০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন।
আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিয়েছে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোও প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে।

তবে, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে হরতাল-অবরোধ অব্যঅহত রেখেছে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের সমমনা দলগুলো। তাদের দাবি, ‘একতরফা’ নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনী তৎপরতায় যুক্ত হওয়ায় কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারও করেছে দলটি।

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হবার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও তার সাথে আন্দোলন করা ৩৯টি রাজনৈতিক দল।

একই দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে সেই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি গণফোরামের ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয়। ভোটে ভরাডুবি ঘটে বিএনপির। এরপর কারচুপির অভিযোগ তোলে তারা। সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

এবার ২০১৪ সালের মত একই দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। ফিরে এসেছে সংঘাতের পরিবেশ। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ আর নাশকতার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।