নাশকতার মামলায় জামিন পাওয়ার একদিন পরেই নৌকার প্রার্থী হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
শাহজাহান ওমর বলেন, জিয়ার রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি আরো উন্নত। তাই নৌকার হয়ে ভোট করবো।
মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেন শাহজাহান ওমর।
বুধবার দুপুরে বাসে আগুন দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর নিউমার্কেট থানার একটি মামলায় জামিন পান তিনি। এরপর সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পান শাহজাহান ওমর।
গত ৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি বাসা থেকে বিএনপির সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে চারদিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
গত ৯ নভেম্বর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
শাহজাহান ওমর বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না বলে, বিএনপি বারবার নির্বাচন বয়কট করে বলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২২ সাল থেকেই দল ছাড়ার চেষ্টায় ছিলাম। ২৮ অক্টোবর বিএনপি দাওয়াত করেছিলো বলে সেখানে অংশ নিয়েছি। দল পরিবর্তন করা সাংবিধানিক অধিকার। আগামীতে আর দল পরিবর্তন করার ইচ্ছে নেই। কোনো চাপে নয় নৌকায় নির্বাচন করার অফার পেয়েই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপিতে নির্বাচনে না যেয়ে লাভবান হওয়ার লোক আছে। যাদের সলিড জনসমর্থন আছে তারা নির্বাচনে না যেয়ে পারেন না।
শাহজাহান ওমর বলেন, এরশাদ আমলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ঘুমিয়েছি, শেখ কামাল বন্ধু ছিলেন।
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্য হত্যা ও অগ্নিসংযোগের নির্দেশদাতা হিসেবে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহজাহান ওমর সাংবাদিকেদের বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এলাকার কোনো কাজ করা হয়নি। এলাকাবাসীর কাছে অনেক দায়বদ্ধতা আছে সেই জায়গা থেকেই নির্বাচনে যাওয়া। বেটার অপসন রেখে আমি কেনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হব? আমি মনে করি ১৪ ও ১৮ তে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিলো।
এবারও যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নৌকায় মনোনয়নের প্রস্তাব করছে, সেখানে আর প্রশ্ন কি?
স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনড় রয়েছেন।
গত রোববার ঝালকাঠি-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনই শাহজাহান ওমরকে মনোনয়ন দিলো আওয়ামী লীগ।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে শাহজাহান ওমর ছিলেন ৯ নম্বর সেক্টরের টাকি সাব সেক্টরের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ত্যাগ ও বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বীর উত্তম খেতাব দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের আবদুল কুদ্দুসকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন শাহজাহান ওমর। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে আবার জেতেন, তবে ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছে হেরে যান অল্প ভোটে।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মঞ্জুকে হারিয়ে তিনি আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি আইন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে শাহজাহান ওমরকে মনোনয়ন দেয়নি তার তখনকার দল বিএনপি।
তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনরায় ধানের শীষ পান শাজাহান ওমর।
২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে শাহজাহান ওমরকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীতে এক সেমিনারে শাহজাহান ওমরের বক্তব্য ভাইরাল হয়। সেদিন তিনি ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উদ্দেশে বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আমাদের জন্য অবতার হয়ে এসেছেন। তার তো আমাদের আরও সাহস দেয়া দরকার, বাবারে তুই আমাদের বাঁচা, রক্ষা কর। তার বলতে হবে- আমি আছি তোমাদের সঙ্গে, তোমরাও ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি আমরাও ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি। পিটার হাস- বাবা ভগবান আসালামু আলাইকুম।’