নাছিম, শিমুল ও পলক সবারই অর্থ বেড়েছে বহুগুণ

ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ গুণ। তার স্ত্রীর বেড়েছে ১৫ গুণ। জমি ও বাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে। নাটোর দুই আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের তুলনায় তার স্ত্রীর অর্থ ও সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম ২০১৪ সালে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরতির পর, এবার তিনি ঢাকা-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। দশ বছর আগে তার বার্ষিক আয়ের প্রায় পুরোটাই ছিলো ব্যবসা থেকে। এবার ব্যবসা থেকে কোনো আয় দেখানো হয়নি; সর্বোচ্চ আয় হয়েছে ব্যাংক সুদ থেকে।

হলফনামায় দেয়ে তথ্য মতে, তার ব্যবসা থেকে আয় কমলেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা টাকার সুদ। ২০১৪ সালে এই খাতে তিনি সুদ পেতেন ৩৪ হাজার ১০৩ টাকা। ৯ বছরের মাথা সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। ১০ বছরের ব্যাবধানে নগদ অর্থ বেড়েছে ১৭ গুণ। আর তার স্ত্রীর বেড়ছে ১৫ গুন। বেড়েছে জমির পরিমাণও। ঢাকায় যুক্ত হয়েছ একাধিক ভবন ও জমি। কমেছে ঋণের পরিমাণ।

২০১৪ সালে তার কাছে নগদ ছিলো প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর কাছে ছিল ১৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এবার তার নিজের কাছে নগদ আছে৭ কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার এবং স্ত্রীর কাছে ৩ কোটি ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ওই সময় ব্যাংকে নিজের ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ও স্ত্রীর ৩১ হাজার ২১৫ টাকা।

ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

এবার ব্যাংকে নিজের স্থায়ী আমানত ও জমা আছে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামেও স্থায়ী আমানত ও জমা আছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ৯ বছরে তিনি আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান হয়েছে ছয়টি। ব্যবসায় স্ত্রীর বিনিয়োগ প্রায় সোয়া কোটি এবং নিজের প্রায় ১১ কোটি টাকা।

নিজের ৬০ লাখ ও স্ত্রীর সাড়ে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। আগে তার গাড়ি ছিল ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার। আর এখন গাড়ি আছে ৫২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার। এ ছাড়া একটি বাস আছে ১২ লাখ টাকা দামের।

ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমির ওপর একটি সাততলা ভবন রয়েছে বাহাউদ্দিন নাছিমের, যার দাম ২ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ঝাউতলায় চার শতাংশ জমির ওপর আরেকটি দোতলা ভবন রয়েছে তার। গাজীপুরের পুবাইলেও ১ একর ৫ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে একটি দোতলা ভবন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে মিরপুরের কাফরুলে।

আলোচিত নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের হলফনামা বলছে, তার তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক তার স্ত্রী জান্নাতি সুলতানা সুমি। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সংসদ সদস্য শিমুলের সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা। স্ত্রী সুমির সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

অর্থাৎ, এমপি শিমুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৪ গুণ। এই সময়ের মধ্যে তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর সম্পদ বেড়েছে ৬৯ গুণের বেশি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে শিমুলের আয় ১১ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকা কমে হয়েছে ৫৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। তবে স্ত্রী সুমির আয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

ব্যবসায় অর্থের পরিমাণ কমেছে তার। তবে বেড়েছে সম্পদ। ২০১৮ সালে ঠিকাদারি ও মৎস খামার থেকে তার আয় ছিলো ৩৭ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে সেটি কমে হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। বন্ড, শেয়ার ও স্থায়ী আমানতে তার বিনিয়োগ এক কোটি ১০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। বেড়েছে স্ত্রীর দালান এবং এপার্টমেন্টের সংখ্যা। ৮১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দালান বাড়ি রয়েছে সুমির। বাকি ৩ কোটি ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৬ টাকার মধ্যে নগদ, ব্যাংকে জমা, শেয়ার, স্থায়ী আমানত, গাড়ি, স্বর্ণ ও আসবাব রয়েছে। নগদ আছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭০ টাকা।

নাটোর ৩ আসনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলকের নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১২ গুণ। ১৮ সালে ছিলো ৯ লাখ। ৫ বছর পর হয়েছে কোটি টাকার উপরে। ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ কমেছে। স্ত্রীর নামে বাড়ি ভাড়ার পরিমাণ ১১ গুণ বেড়েছে। স্থায়ী আমানতে স্ত্রীর বিনিয়োগও দ্বিগুণ হয়েছে।

নাটোর ৩ আসনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক।

গত পাঁচ বছরে পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকার নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। তবে কমেছে পলকের ব্যাংকে টাকার পরিমাণ। পলক এই আসনের টানা তিন বারের সংসদ সদস্য। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এবারের হলফনামায় পলক উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার ১১২ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে আছে ৪৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯১ টাকা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফে তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় তার কাছে নগদ টাকা ছিল ৯ লাখ ১৭ হাজার ২৪৩ টাকা। স্ত্রীর ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ টাকা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ।

হলফনামায় পেশা হিসেবে পলক আইনজীবী দেখালেও সেখান থেকে তিনি আয় করেন না। কৃষি খাত থেকে বার্ষিক ৪৮ হাজার টাকা, বাড়ি-দোকান-অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ৬০ হাজার, শেয়ার-সঞ্চয় থেকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৪ টাকা, চাকরি (প্রতিমন্ত্রী হিসেবে) থেকে ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৪ টাকা এবং টকশো করে ২ লাখ ২ হাজার টাকা বছরে আয় করেন জুনাইদ আহমেদ পলক।