ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর এক লাফে আকাশে উঠে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দেশি পেঁয়াজে বাজার ছেয়ে গেলে দাম কমে যাবে।
শুক্রবার হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এই খবরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পাইকারিতেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় কেজিতে ১৪০ টাকার বেশি।
খুচরায় রোববার বেশিরভাগ দোকানে আড়াইশ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় পেঁয়াজ। কোথাও কোথাও ২৮০ টাকায় উঠে যায়।
আর দাম ধরতে ব্যাপকভাবে মুড়িকাটা বাজারে এসে পড়ায় পেঁয়াজের আকাশচুম্বী মূল্য পড়তে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
সোমবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আগের দিনের তুলনায় বেশি পরিমাণে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দেখা মিলেছে। দামও তুলনামূলক কম।
এদিন বিভিন্ন বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে।
হাছান মাহমুদ বলেন, শাক-সবজি, মাংসসহ বেশিরভাগ দ্রব্যমূল্য কমেছে। তবে পেঁয়াজের দাম যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, সেটা অপ্রত্যাশিত। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের অসৎ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এরি মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। তারা জরিমানা করেছে।
আর এর ফলে বাজারে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসলেও পুরোপুরি আসেনি বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
দাম বেড়ে গেলে ভোক্তাদের না কেনার প্রবণতাটা ইতিবাচক- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে দাম কমতে সহায়ক হয়।
নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষক বাড়ছে
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকের অনেক রকম শঙ্কা ও নানা মুনির নানা মত ছিলো। কিন্তু সেগুলো ধীরে ধীরে ঘুচছে। আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে।
‘পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে বিদেশিদের দোলাচল দূর হচ্ছে। তাতে করে সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’
নির্বাচন কমিশনও বলিষ্ঠ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, যেমন, মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল। এমন করে আগে হয়নি।
‘এতে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন। আর এখন যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকছে না বললেই চলে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচনী আইন ও প্রক্রিয়া ততোটা শক্তিশালী ও স্বচ্ছ না, যতোটা বাংলাদেশে।’
এদিকে আওয়ামী লীগের জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, সহসাই সমঝোতা হবে বলে আশা করা যায়। জাতীয় পার্টির সাথেও কৌশলগত জোট গঠন নিয়ে দ্রুতই ঐকমতে পৌঁছানো যাবে।
‘স্বতন্ত্রদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করবে। আর বিদ্রোহীদের বিষয়ে দল সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, মাঠ প্রশাসনে ও পুলিশ প্রশাসনে বদলিতে সরকারের কোনো হাত নেই। কেননা, নির্বাচন কালে সবকিছু নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং সরকার কমিশনকে সহযোগিতা করতে বাধ্য।