সাদিক আব্দুল্লাহর আমেরিকার নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য চাইলো ইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা নিতে বলেছে ইসি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় তার ও তার স্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সম্পদ সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছেন মর্মে অভিযোগ করে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ওই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।

কমিশন গত ১০ ডিসেম্বর আপিল শুনানিকালে এ প্রার্থী ও তার স্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সম্পদ সম্পর্কে তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। ওই আপিল সংক্রান্ত শুনানি মুলতবি করে চাওয়া তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ১৫ ডিসেম্বর আপিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে।

এ অবস্থায়, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তাদের সম্পদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠানোর জন্য বলেছে  কমিশন।

গত ৬ ডিসেম্বর সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। অপরদিকে ৯ ডিসেম্বর জাহিদ ফারুকের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আপিল করেন সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনেন। তার আবেদনের শুনানি হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

এর আগে অভিযোগ উঠেছিলো- সাদিক আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীর নামে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির কথা হলফনামায় গোপন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়ন ৪ ডিসেম্বর বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সংসদীয় নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি সাদিক আবদুল্লাহ। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফারুক শামীমকে বরিশাল-৫ আসনে  প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

সাদিকের বাবা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। সাদিক আব্দুল্লাহ ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন। তবে ২০২৩ সালে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি।

তার বদলে মনোনয়ন দেওয়া হয় সাদিকের ছোট চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত)। তিনি নির্বাচিতও হয়েছেন। এরপর চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্ব নিয়ে সারা দেশে আলোচনা তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে জাহিদ ফারুকের অনুসারিরা সার্বক্ষণিক আবুল খায়ের আবদুল্লাহর পাশে ছিলেন।

১৪ নভেম্বর বরিশালের মেয়রের দায়িত্ব নেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ।